ইউক্রেন সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ করছে, সবাই জানে: সাবেক পোলিশ প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেন সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ করছে, সবাই জানে: সাবেক পোলিশ প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেশটির কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পোল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লেশেক মিলার। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের হিসাব না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিকে নতুন করে সহায়তা দেওয়া বন্ধ রাখা উচিত।…

ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেশটির কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পোল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লেশেক মিলার। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনকে আগের দেওয়া অর্থ ও অস্ত্রের হিসাব না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিকে নতুন করে সহায়তা দেওয়া বন্ধ রাখা উচিত।

শনিবার পোলসাট নিউজের ‘ইয়ানকোভস্কি কনট্রা’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, পোল্যান্ডসহ যেসব দেশ ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়েছে, তাদের উচিত সেই সহায়তা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব চাওয়া।

মিলার বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে পোল্যান্ড ইউক্রেনকে প্রায় ৩০০টি ট্যাংক দিয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর কী হয়েছে, ভারী ও হালকা সামরিক সরঞ্জামের কী হয়েছে, কিংবা ইউক্রেনকে দেওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো কোথায় ব্যয় হয়েছে—এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করছে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সহায়তা চাইলে পশ্চিমা দেশগুলো তা দিয়ে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মিলার। ইউক্রেনে পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, সবাই তা জানে।’

মিলার বলেন, পোল্যান্ডের উচিত ইউক্রেনকে দেওয়া সহায়তার হিসাব চাওয়া। আগের অর্থ ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে হিসাব না দিলে নতুন সহায়তা বন্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, কাউকে ঋণ দিলে আগের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার প্রতিবেদন চাওয়া স্বাভাবিক। পোল্যান্ডও ধনী দেশ নয়। নিজেদের নাগরিকদের প্রতি দেশটির দায়িত্ব রয়েছে। তাই অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম যাচাই-বাছাই ছাড়া দেওয়া উচিত নয়।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক। দেশটি ইউক্রেনকে সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তায় বিপুল অর্থ দিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম ইউক্রেনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও পোল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ হিসেবে কাজ করছে।

তবে ইউক্রেনের সঙ্গে পোল্যান্ডের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভলহিনিয়া অঞ্চলে পোলিশদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীদের প্রতি ইউক্রেনের কিছু মহলের শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিয়ে পোল্যান্ডে ক্ষোভ রয়েছে।

পোল্যান্ড এসব হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী সংগঠন ও নেতাদের নিয়ে ভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক মূল্যায়ন রয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা অর্থের ব্যবহার নিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনারগোটমকে ঘিরে বড় অঙ্কের ঘুষ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

পোল্যান্ডের দেওয়া পুরোনো সোভিয়েত আমলের মেট্রো ট্রেন সরবরাহের ক্ষেত্রেও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর নতুন সহায়তা ঋণ দ্রুত অনুমোদনের আবেদন চলতি সপ্তাহে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউক্রেনকে দুর্নীতিবিরোধী ও সুশাসনসংক্রান্ত প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ সহায়তার সঙ্গে এসব সংস্কারের অগ্রগতি যুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে ইইউ।

সূত্র: আরটি

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন