জার্মানি একীভূত হওয়ার ৩৬তম বার্ষিকী পালন করছে। ১৯৯০ সালের ৩ অক্টোবর সাবেক পূর্ব জার্মানি পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়। এর মধ্য দিয়ে ৪১ বছর ধরে চলা জার্মানির বিভক্তির অবসান ঘটে। বার্লিন আবারও একীভূত জার্মানির রাজধানী হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিকে চারটি দখল অঞ্চলে ভাগ করে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। পরে শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরোধ তৈরি হয়।
১৯৪৯ সালে জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি বা পশ্চিম জার্মানি এবং পূর্বাঞ্চলে জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক বা পূর্ব জার্মানি প্রতিষ্ঠিত হয়। দুই দেশই ১৯৫৫ সালে সার্বভৌমত্ব পায়। তবে বিদেশি শক্তিগুলোর বিশেষ অধিকার পুরোপুরি শেষ হয়নি।
১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতন জার্মানির একীভূত হওয়ার পথ খুলে দেয়। এরপর ১৯৯০ সালের ৩১ আগস্ট দুই জার্মানির মধ্যে একীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির ভিত্তিতেই ৩ অক্টোবরকে জার্মানির একীভূত হওয়ার দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
প্রথমে ৯ নভেম্বরকে জাতীয় দিবস করার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৩৮ সালের নাৎসি আমলের ইহুদিবিরোধী সহিংসতার স্মৃতি থাকায় সেই তারিখটি বাদ দেওয়া হয়। পরে ৩ অক্টোবরকে বেছে নেওয়া হয়।
একীভূত হওয়ার পরও পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পার্থক্য পুরোপুরি দূর হয়নি। ২০২৬ সালের জার্মান সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার অনেক ক্ষেত্রে দুই অঞ্চলের মানুষের মূল্যায়ন এখন কাছাকাছি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে পূর্ব জার্মানির মানুষের প্রতিনিধিত্ব এখনো তুলনামূলক কম।
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষগুলোতে পূর্ব জার্মানির মানুষের অংশ ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
সম্পদের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে করযোগ্য উত্তরাধিকার ও উপহারের মোট মূল্যের ৯৫ শতাংশই পশ্চিম জার্মানিতে গেছে।
এর পেছনে একীভূত হওয়ার পরের অর্থনৈতিক পরিবর্তন বড় ভূমিকা রেখেছে। রকউল ফাউন্ডেশন বার্লিনের এক গবেষণা অনুযায়ী, পূর্ব জার্মানির সাবেক নাগরিকদের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর নিজেদের চাকরি ধরে রাখতে পেরেছিলেন।
১৯৯০-এর দশকে পূর্ব জার্মানির অনেক প্রতিষ্ঠান বাজার হারিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে পশ্চিমাঞ্চলে চলে যান। বিশেষ করে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের একটি বড় অংশ পশ্চিম জার্মানি ও বিদেশে চলে যাওয়ায় কিছু পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় এখনো জনসংখ্যা কম এবং বড় কোম্পানির সদর দপ্তরও তুলনামূলক কম।
জার্মান সরকার এসব বৈষম্য কমাতে কাঠামোগতভাবে দুর্বল অঞ্চলগুলোতে বিশেষ সহায়তা দিচ্ছে।
দুই জার্মানির একীভূত হওয়ার প্রতীক হিসেবে বার্লিন ও পটসডামকে যুক্ত করা গ্লিয়েনিকে সেতুরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ বছরে সেতুটি ধ্বংস হয়েছিল। ১৯৪৯ সালে এটি আবার চালু হয়। শীতল যুদ্ধের সময় এখানে বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর ও এজেন্ট বিনিময় করা হতো।
জার্মানিকে একীভূত করার প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক চ্যান্সেলর হেলমুট কোলকে দেশটির ‘একতার চ্যান্সেলর’ হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৯৯০ সালের ২ অক্টোবর এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেছিলেন, চার দশকের বেশি সময়ের বিভক্তির পর জার্মানি আবার এক হতে যাচ্ছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ








মন্তব্য