রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেন হামলা আরও বাড়ানোর হুমকি দেওয়ার পর ইউক্রেনে সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। রোববার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সতর্কবার্তা দেয়।
এর একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। কিয়েভে দিনিপ্রো নদীর ওপর কয়েকটি সেতুতে রাশিয়ার হামলার জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, জেলেনস্কির ঘোষণার বিষয়টি তারা বিবেচনায় নিয়েছে। তার বক্তব্যের পর কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক ও সামরিক-শিল্প স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় রুশ হামলা আরও বাড়ানো হবে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইউক্রেনে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর রাশিয়ার হামলা বেড়েছে। ওডেসার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবেই তারা এসব অভিযান চালাচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, রাশিয়ার স্টেট ডুমা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতে হামলায় ছয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর মস্কোর বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইউক্রেন ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এ ছাড়া জুনে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বেলগোরোদে আবাসিক এলাকায় হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত এবং বাড়িঘর ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে মস্কো।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনে নতুন করে হামলা বাড়ানোর জন্য জেলেনস্কিই ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী’। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে এবং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা রয়েছে।
পুতিন আরও বলেছেন, রাশিয়ার পাল্টা হামলার ফলে ইউক্রেনের ইস্পাত উৎপাদন শিল্প এখন আর কার্যকর নেই।
সূত্র: আরটি








মন্তব্য