এবার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে আসছে তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। ১ ও ২ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির চতুর্থ ও পঞ্চম ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তেজগাঁও কলেজের অডিটরিয়ামে প্রযোজনাটির প্রথম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ শুধু পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবনকথা নয়, এর ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে শ্রম, দারিদ্র্য, শ্রেণি-শোষণ, প্রেম, আকাঙ্ক্ষা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। প্রযোজনাটিতে জেলেদের জীবনকে করুণার জায়গা থেকে না দেখে তাদের শ্রম, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্তিত্বসংকটের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্দেশক সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের।
প্রযোজনাটির অধিকর্তা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন, প্রযোজনা উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) (প্রশাসন) অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ ও উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ কেন এখন মঞ্চে, এই প্রশ্নকে সামনে রেখে নির্মিত প্রযোজনাটি অতীতের জেলেপল্লির জীবন ও বর্তমানের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতার মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করতে চায়।
প্রযোজনাটির মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের, সহকারী অধ্যাপক, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ। উপন্যাসের নাট্যরূপ দিয়েছেন মো. রেজওয়ান, ড্রামাটার্গ ড. জাহারাবী রিপন, সহকারী অধ্যাপক, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় রয়েছেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব।
প্রযোজনায় কুবের চরিত্রে রাইসুল ইসলাম রোমান, কপিলা চরিত্রে নুসরাত লামিয়া, হোসেন মিয়া চরিত্রে আতিকুল ইসলাম, গণেশ চরিত্রে মো. রেজওয়ান, মালা চরিত্রে তাসনিম হায়দার লুবনা, গোপি চরিত্রে নুসরাত জাহান সাদিয়া এবং রাসু চরিত্রে মিনহাজ উদ্দিন নাকিব অভিনয় করছেন।
এ ছাড়া ধনঞ্জয়, বৈকুণ্ঠ ও বঙ্কু চরিত্রে তুর্য দত্ত, প্রীতম ও পুলিশ চরিত্রে মাশরাফি সজিব, নকুল দাস ও আফিম ব্যবসায়ী চরিত্রে এম সাইফুর রহমান, আমিনুদ্দিন ও ডাক্তার বাবু চরিত্রে অন্তর মুন্সি, শীতল বাবু চরিত্রে রাহিম চৌধুরি সাগর, শম্ভু চরিত্রে শাহরিয়ার কাদির এবং আমিনুদ্দিনের মেয়ের চরিত্রে ইসরাত বিনতে তুবা অভিনয় করছেন।
আলোক পরিকল্পনা ও অভিনয় প্রশিক্ষণে আতিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ। আলোক পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে রয়েছেন মেহেদী হাসান ও নাসির উদ্দিন জীবন। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মাশরাফি সজিব এবং সহকারী মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় অন্তর মুন্সি, সহকারী মঞ্চ পরিকল্পনায় মাশরাফি সজিব, ফজলে রাব্বি মুন্না ও নাসিরউদ্দিন জীবন।
এ ছাড়া পোশাক পরিকল্পনা ও রূপসজ্জায় ড. লতা সমদ্দার, সহকারী অধ্যাপক, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ। সঙ্গীত পরিকল্পনায় শারমিন সুলতানা নিপা, প্রভাষক, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ এবং সঙ্গীত পরিকল্পনা সহকারী ও প্রক্ষেপণে মোকাদ্দেসুর রহমান সান ও সাজ্জাদ হোসেন। দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনা ও নির্মাণে মাশরাফি সজিব ও ইসরাত বিনতে তুবা। পোস্টার ডিজাইনে মোকাদ্দেসুর রহমান সান এবং ব্রোশিওর নির্মাণে রয়েছেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব ও মেহেদী হাসান।








মন্তব্য