গত ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, গোয়ায় নিজ বাসগৃহে জীবনাবসান ঘটে বিশিষ্ট অভিনেতা নানা পাটেকরের। একই দিন রাতে পুণেতে তার নিজস্ব খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তার চিরবিদায়ে শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন পরিবারবর্গ, ভক্তকুল এবং সহকর্মীরা। অভিনয়জগতে সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারার জন্ম দেওয়া এই শিল্পী কখনোই গতানুগতিক ধারার নায়ক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেননি। তবে নব্বইয়ের দশকে তার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে তার প্রেমের গুঞ্জন বেশ চর্চায় ছিল।
দুই তারকার কেউই সে সময় দীর্ঘকাল খোলামেলাভাবে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তবে পথ আলাদা হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে প্রিন্ট মাধ্যমে আসা একটি সাক্ষাৎকারে নিজের ভেতরের আবেগ আর চেপে রাখতে পারেননি নানা। সেই সময় ভাঙা মনের হাল বর্ণনা করতে গিয়ে তার চোখে জল চলে এসেছিল।
সেদিনের সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, ‘খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমি যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।’
‘খামোশী’ কিংবা ‘অগ্নিসাক্ষী’-র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজনে। প্রতিটিতেই তাদের অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বিশেষ করে ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন নানা। যদিও ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর মেলে, ‘যুগপুরুষ’ সিনেমার কাজ চলাকালেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল।
সম্পর্ক চুকে যাওয়ার পরেও কখনো মনীষাকে নিয়ে প্রকাশ্যে তিক্ত মন্তব্য করেননি নানা পাটেকর। বরং উল্টো তার সহজাত প্রতিভার উচ্চকিত প্রশংসা করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘মনীষার প্রতিভা সহজাত। সে আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের অন্যতম। সে অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। তাকে বুঝতে হবে যে অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন নেই। তার নিজের মধ্যেই সব রয়েছে এবং সেটাই যথেষ্ট।’
নব্বইয়ের ওই দশকটিতে নানার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর মনীষার নিজের জীবনও এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছিল। পরবর্তীকালে নিজের ‘হিলড’ নামক স্মৃতিকথা বা আত্মজীবনীতে অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাসের কথা খোলাখুলি তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছিলেন, ‘শুটিংয়ের চিন্তা থেকে মন সরাতে এবং নিজেকে অসাড় করে রাখতে মদ্যপান শুরু করেছিলাম। ডায়েট করার সময় ভদকার ওপর নির্ভর করতাম।’
সে যুগে মনীষার এমন করুণ অবস্থা দেখে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন নানা নিজেও। তার ভাষ্য ছিল, ‘সে নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ তার বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’
এখানে উল্লেখ্য যে, মনীষার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর সময়ও নানার স্ত্রী নীলকণ্ঠীর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে শেষ হয়নি, যদিও তারা আলাদা বসবাস করতেন। অন্যদিকে, জীবনের পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেন মনীষা। তবে সেই সংসার টেকেনি, মাত্র দুই বছরের মাথায় তা ভেঙে যায়।
নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর সামাজিক মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মনীষা লিখেছেন, ‘একজন মহান অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পের প্রথীতযশা স্তম্ভের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। চলচ্চিত্রে তার অবদান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা চিরকাল মনে রাখা হবে।’
সূত্র: এনডিটিভি








মন্তব্য