‘কারও জুতোয় পা না গলালে তার যন্ত্রণা বোঝা যায় না’

‘কারও জুতোয় পা না গলালে তার যন্ত্রণা বোঝা যায় না’

দীর্ঘ লড়াই আর অবিরাম পরিশ্রমে টালিউডের শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে আজ নিজের নামটি স্থায়ী করে নিয়েছেন কৌশানী মুখার্জি। দুর্গাপূজায় ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সিনেমায় ‘ঝিমলি’ রূপে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শুটিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, শিবপ্রসাদ মুখার্জির…

দীর্ঘ লড়াই আর অবিরাম পরিশ্রমে টালিউডের শীর্ষ নায়িকাদের কাতারে আজ নিজের নামটি স্থায়ী করে নিয়েছেন কৌশানী মুখার্জি। দুর্গাপূজায় ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ সিনেমায় ‘ঝিমলি’ রূপে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শুটিংয়ের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা, শিবপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে খুনসুটি ও বোঝাপড়া, সমালোচনার কাঁটাতার পেরিয়ে আসার গল্প এবং নিজের সুখের সংসার নিয়ে একদম খোলামেলা হৃদয়ে ধরা দিয়েছেন তিনি।

সিনেমার দ্বিতীয় পার্ট নিয়ে প্রত্যাশা ও চাপ প্রসঙ্গে কৌশানী জানান, প্রথম ছবির ক্ষেত্রে চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ সেটি সবার কাছে নতুন ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় পার্টে এসে সেই চরিত্র মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে, ফলে বাড়তি দায়িত্ব আরও বেড়েছে। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে তিনি প্রথম পর্বটি বারবার দেখেছেন এবং সেই ভাষার উচ্চারণ রপ্ত করেছেন। এমনকি চরিত্রটির জন্য দীর্ঘ সময় মেকআপ নেওয়া এবং গরমে শুটিং করার কষ্টের কথাও শেয়ার করেছেন তিনি।

পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে কৌশানী জানান, শুটিংয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। কোনো নির্দিষ্ট হেয়ারস্টাইল নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে শুটিংয়ের আগে তাদের কথা বন্ধ থাকার কথাও জানান তিনি। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে শিবপ্রসাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে এলে শিবুদা একাই বাজিমাত করে দেন এবং তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এছাড়া মজার ছলে তিনি জানান, বন্ধু হিসেবে তিনি চান শিবপ্রসাদ নিজেকে আরও একটু আপডেট করুন।

নিজের চরিত্র এবং জীবনের পরিবর্তন নিয়ে কৌশানী বলেন, ছোটবেলায় তিনি বেশ শান্ত ও লাজুক স্বভাবের ছিলেন এবং কথায় কথায় কেঁদে ফেলতেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দিয়েছে। এখন ভুল দেখলে তিনি চুপ থাকেন না। একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ না পেয়ে সমালোচনার শিকার হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমালোচনা করা সহজ, কারও জুতোয় পা না গলালে তার যন্ত্রণা বোঝা যায় না। একঘেয়ে রিমেক ছবির যুগে হিরোইনদের কাজের সুযোগ কম থাকলেও এখন সময় বদলিয়েছে এবং তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন।

বনি সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কৌশানী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বনির সাফল্যে তার কখনোই ইনসিকিউরিটি কাজ করে না। তিনি বলেন, বনি ও তিনি একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে থেকেছেন। তিনি অন্তর থেকে চান বনি যেন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ স্থানে পৌঁছায়। এছাড়া বাবাকে একটি বাড়ি উপহার দিতে পারার আনন্দ এবং বাবাই যে তার সবচেয়ে বড় প্রচারক বা ইন-হাউজ পিআর, সে কথাও আনন্দ নিয়ে জানান এই অভিনেত্রী। আসছে পুজোয় সপ্তমী পর্যন্ত সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও অষ্টমীর পর থেকে আর কারও ফোন ধরবেন না এবং পুরোদমে পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটাবেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ‌‌‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে’ সিনেমা দিয়ে বনি সেনগুপ্তের বিপরীতে অভিনয়ের মাধ্যেমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন কৌশানী মুখার্জি । তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাজ হলো ‘কেলোর কীর্তি’ (২০১৬), ‘জিও পাগলা’ (২০১৭), ‘বাচ্চা শ্বশুর’ (২০১৯) ও ‘আবার প্রলয়’ (২০২৩ ওয়েব ধারাবাহিক)।

সূত্র: এই সময়

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন