ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি চালুর উদ্যোগ আইসিটি বিভাগের
দেশের নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন সব ডেটাবেজ এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা করছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ
প্রযুক্তি ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
দেশের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টগুলোকে একীভূত করতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান আইডি’ চালু, নিজস্ব সার্বভৌম বাংলা এআই তৈরি এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে সেন্টার ফর টেকনোলজি জার্নালিজমের (সিটিজে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভুঁঞা। এ সময় আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মজিবর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
সভায় আইসিটি সচিব জানান, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন ও কর ফাইলসহ নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন ডেটাবেজগুলোকে এক জায়গায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা তথ্যের অপব্যবহার ও জালিয়াতি রোধ করবে। এছাড়া সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশ্বস্ত ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির কাজ চলছে। সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সিকে শক্তিশালী করতে ১২০ জন জনবল নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যার একটি বড় অংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে নিজস্ব এআই মডেল, শেয়ারড জিপিইউ অবকাঠামো এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব সেতু ও টোল প্লাজার জন্য ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল টোল সিস্টেম’ চালুর কথা জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সিটিজের সভাপতি সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির, মহাসচিব সাইফ আহমাদ, সহসভাপতি মিজানুর রহমান সোহেল, পরিচালক (সাংগঠনিক) রেজাউল করিম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিবেদক কাজী সোহাগ ও লেখক রাহিতুল ইসলামসহ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। সিটিজের সভাপতি হাসান জাকির বলেন, “বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় দক্ষ জনবল তৈরির নামে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে অর্থ তছরুপের সুযোগ যেন না দেওয়া হয়।” অর্থের অপচয় রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সিটিজের মহাসচিব সাইফ আহমাদ বলেন, “প্রযুক্তি খাতে নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।” এছাড়া উদ্ভাবনী প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারা পান এবং সেখানে কোনো স্বজনপ্রীতি না হয়, সেই দাবি জানান তিনি। সভায় সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করা, কারিগরি বিষয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা আয়োজন এবং নীতিনির্ধারণী সভায় সিটিজের প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।