নির্বাচনের আগে ফের হামলার শঙ্কা প্রকাশ নেতানিয়াহুর, মতলব কী?

নির্বাচনের আগে ফের হামলার শঙ্কা প্রকাশ নেতানিয়াহুর, মতলব কী?

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ‘শত্রুরা’ হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় বিরোধী নেতারা তাকে নিরাপত্তা হুমকিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর…

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ‘শত্রুরা’ হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করায় বিরোধী নেতারা তাকে নিরাপত্তা হুমকিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তেল নফ বিমানঘাঁটি পরিদর্শনের সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে নির্বাচনের আগে আমাদের শত্রুরা আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এখান থেকে, বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে, ইসরায়েলের দীর্ঘ হাতের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের একটি বার্তা দিচ্ছি; আমাদের সঙ্গে খেলবেন না, এখন নয়, কখনো নয়। আমাদের দীর্ঘ হাত যে কোনো জায়গায়, যেকোনো সময় আপনাদের কাছে পৌঁছাবে।’

তবে সম্ভাব্য হামলার ধরন বা তার কাছে থাকা ‘ইঙ্গিত’ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানাননি নেতানিয়াহু।

তার বক্তব্যের পর প্রধান নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের দল ইয়াশার এক বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে অবহিত করার দাবি জানায়। দলটি বলেছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সঠিক হলে লাপিদকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি, নাকি নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার রাজনৈতিক কৌশল; তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

লাপিদও নেতানিয়াহুর কাছে জরুরি নিরাপত্তা ব্রিফিং দাবি করেন। এক্সে তিনি লেখেন, হুমকিগুলো বাস্তব কি না এবং নির্বাচন যাতে কোনো বাধা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন; তা জানতে চান তিনি।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলানও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার মতে, নিরাপত্তা হুমকি থাকলে তা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানানো এবং জনগণের কাছে এর ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

এদিকে কান, হারেৎজ ও আর্মি রেডিওর উদ্ধৃত নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের কোনো শত্রুপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করছে; এমন নির্দিষ্ট কোনো হুমকি সেনাবাহিনীর কাছে নেই। এ কারণে সেনাবাহিনী সতর্কতার মাত্রা বাড়ায়নি বা কোনো এলাকায় অতিরিক্ত সেনাও মোতায়েন করেনি বলে জানানো হয়েছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর তার দপ্তর জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব লাপিদকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। দপ্তরটি আরও জানায়, নেতানিয়াহু নিয়মিত বিরোধীদলীয় নেতা লাপিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক করেন এবং সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। 

তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে লাপিদ চার পক্ষের বৈঠকের দাবি জানান। সেখানে নেতানিয়াহু ও তিনি ছাড়াও শিন বেতের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানকে রাখার দাবি করেন তিনি।

পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় নেতানিয়াহু ও লাপিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্ভাব্য হামলার হুমকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল গাই মার্কিজেনো এবং সামরিক সচিবালয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিং শেষে লাপিদ বলেন, ‘জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা হুমকির বিষয়গুলো পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আইডিএফের ঘাঁটিগুলো নির্বাচনি ভিডিও তৈরির জায়গা নয়।’

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করে লাপিদ বলেন, আইডিএফের প্রধান এয়াল জামির যুদ্ধের সেনাসংকট ও সেনাবাহিনীর দুর্বলতা নিয়ে ১০টি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিয়ে নেতানিয়াহু যদি এতটাই উদ্বিগ্ন হন, তাহলে আইডিএফের প্রয়োজনীয় ১৫ হাজার অতি-অর্থডক্স ইহুদি তরুণকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লাপিদ বলেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে এবং কেউ তা বাধাগ্রস্ত করার অজুহাত দেখাতে পারবে না।’

তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দিক থেকে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর বেশি কিছু জানানো হয়নি।

নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি অবশ্য লাপিদের সমালোচনা করে বলেছে, তিনি রাত ১১টা ৩৯ মিনিটে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান এবং মাত্র দুই মিনিট পর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্যসংবলিত দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন। দলটির দাবি, হয় লাপিদ ‘আলোর গতিতে’ লিখেছেন, নয়তো ব্রিফিংয়ের আগেই বিবৃতিটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তার সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বি’ইয়াখাদ পার্টির নেতা নাফতালি বেনেটও। তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু একই সঙ্গে ব্যাপক সেনাসেবা এড়ানোর সুযোগ এবং আইডিএফের দুর্বলতার দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন।

তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে বেনেট বলেন, নেতানিয়াহু নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছেন, অথচ তার নিজের সরকারই ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি’ তৈরি করছে। তার অভিযোগ, অতি-অর্থডক্স ইহুদি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দিতে বর্তমান সরকার আইন করার চেষ্টা করছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে যারা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন, তাদের ব্যর্থতার জন্য পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন বেনেট।

এদিকে মুক্ত জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তাকে দায়মুক্ত করার উদ্দেশ্যে জঘন্য প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেন। তার দাবি, হামলার আগে বিশ্বজুড়ে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেছিলেন।

হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার হুমকি নিয়ে শীর্ষ মন্ত্রী ও সহযোগীদের অবহিত করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকও ডাকার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে বৈঠকটি অস্বাভাবিক একটি স্থানে আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নেতানিয়াহু-সমর্থক ও বিরোধী দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে সমতা দেখা যাচ্ছে। টাইমস অব ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়েছে, এখন নির্বাচন হলে দুই জোটই ৫৩টি করে আসন পেতে পারে। বাকি আসনগুলোর ক্ষেত্রে দুটি আরব দলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন