যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার সন্দেহজনক ষড়যন্ত্রে ‘বিদেশি পক্ষ’ জড়িত বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। ইরান সংঘাতে অংশ নেওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি ব্যবহার করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাজ্যে যা ঘটতে পারত, তা অত্যন্ত গুরুতর পরিস্থিতি। এতে স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন বোমারু বিমান থাকা ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর রুবিও এ মন্তব্য করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনই লন্ডনের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের বয়স ২০-এর কোঠায়। রোববার ভোরে স্থানীয় এক কৃষক পুলিশকে তিনটি সাদা ভ্যান ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির দিকে যেতে দেখার খবর দেওয়ার পর তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ তাদের বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তে ইরানের সংশ্লিষ্টতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে সন্দেহভাজনদের পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়ায় তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানোর মতো তাৎক্ষণিক হামলার প্রস্তুতিতে তারা ছিল; এমনটা এখন কম সম্ভাব্য বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
জুলাইয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যে ইরানের দূতাবাস ফেয়ারফোর্ডের কাছে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ঘটনাটি সামাল দেওয়ার প্রশংসা করলেও রুবিও বলেন, তদন্তাধীন কয়েকজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন।
এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, তিনি সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দিতেন না।
ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি। আমরা তাদের মুক্তি দিতাম না। ঘটনার সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র আছে কি না; জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, হতে পারে।
বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বরং এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি উত্তরটা জানি, খুব নির্দিষ্ট করে বলতে পারি। কিন্তু আমি তা বলতে চাই না। আমি তাদের মুক্তি দিতাম না।
এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল। তবে ব্রিটিশ সূত্রগুলো বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগে থেকে কোনো তথ্য ছিল না।
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের প্রধান সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার অর্থ তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তাদের ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তবে তদন্তের এ পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই খোলা রাখা হয়েছে।
টেলর বলেন, আমরা সম্ভাব্য সব দিক থেকে বিষয়টি বিবেচনা করছি। এর মধ্যে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এটি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড হতে পারে; তারা জেনে বা না জেনে এমন কাজ করে থাকতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে ভ্যানগুলো পরীক্ষা করে পুলিশ ধারণা করেছিল, এতে বিস্ফোরক উপকরণ থাকতে পারে। সেগুলো কার্যকর বিস্ফোরক ডিভাইস হিসেবে ব্যবহারযোগ্য কি না, তা নিয়েও মূল্যায়ন করা হয়। তবে সন্দেহভাজনদের মুক্তির পর জানা যায়, কোনো বিস্ফোরক উপকরণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান








মন্তব্য