হরমুজের কাছে আটকা ৬ হাজার নাবিক, কী করছে আইএমও?

হরমুজের কাছে আটকা ৬ হাজার নাবিক, কী করছে আইএমও?

সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)। আইএমওর মহাসচিবের নির্বাহী দপ্তরের প্রধান সচিব লুকা স্পাতারো শাফাক নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি…

সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।

আইএমওর মহাসচিবের নির্বাহী দপ্তরের প্রধান সচিব লুকা স্পাতারো শাফাক নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, আটকেপড়া নাবিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে আইএমও। একই সঙ্গে সেখানে থাকা নাবিকদের নিয়মিত সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে জুনে বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে ১৩৬টি জাহাজে থাকা প্রায় ২ হাজার ৯০০ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় পরে ওই অভিযান স্থগিত করা হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে অন্তত ৮০টি হামলার ঘটনা আইএমও নিশ্চিত করেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ২২ নাবিক নিহত হয়েছেন।

জাহাজ চলাচলের পথ পরিষ্কারের উদ্যোগ

হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত জাহাজ চলাচলের পথের কোনো অংশে মাইন থাকলে সেগুলো সরানোর বিষয়েও কাজ করছে আইএমও। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এসব নৌপথ মাইনমুক্ত করা জরুরি বলে জানান স্পাতারো।

তিনি বলেন, নৌপথ পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে সাময়িক বিকল্প পথ ব্যবহারের বিষয়েও কয়েকটি সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সংঘাত শেষ হলে জাহাজে হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় আলোচনায় সহায়তা করতে প্রস্তুত আইএমও। তবে সংঘাতের মূল কারণ সমাধান করা সদস্য দেশগুলোর দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

বাব আল-মান্দাব নিয়েও আলোচনা

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে বলে জানান স্পাতারো।

তিনি বলেন, ইয়েমেনের হুতিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার নয়। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী ও সদস্য দেশগুলোর মাধ্যমে অগ্রগতি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আইএমও। অন্যদিকে ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে সংস্থাটি।

স্পাতারো বলেন, বাব আল-মান্দাব ও হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে এবং জাহাজ চলাচল যত বেশি ব্যাহত হবে, পণ্য সরবরাহে সংকট ও পরিবহন ব্যয় তত বাড়বে। এতে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাইপলাইন দিয়ে সমুদ্রপথের বিকল্প সম্ভব নয়

হরমুজ এড়িয়ে ইরাক থেকে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর বানিয়াস পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের মতো বিকল্প প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পাতারো বলেন, এ ধরনের অবকাঠামো সহায়ক হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ পণ্য একই গতি ও পরিসরে পাইপলাইন দিয়ে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।

তার মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার।

সূত্র: শাফাক নিউজ

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন