দক্ষিণ কোরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণ, সন্দেহের তীর উত্তর কোরিয়ার দিকে

দক্ষিণ কোরিয়ায় মাইন বিস্ফোরণ, সন্দেহের তীর উত্তর কোরিয়ার দিকে

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সেনামুক্ত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন ব্যবহারের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। ওই বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সামরিক সদস্য গুরুতর আহত হন। খবর আলজাজিরার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে,…

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, সম্প্রতি দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সেনামুক্ত অঞ্চলে বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন ব্যবহারের জোরালো সন্দেহ রয়েছে। ওই বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সামরিক সদস্য গুরুতর আহত হন। খবর আলজাজিরার।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে চালানো তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, সম্প্রতি পুঁতে রাখা স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেনি।

জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের ভাইস চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কওন দে-ওন বলেন, বিস্ফোরণের ফলে তৈরি গর্ত, আগুনের বিস্তারের ধরন এবং আহত সামরিক সদস্যদের আঘাতের মাত্রা বিবেচনায় উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের স্থানটি এমন একটি এলাকার প্রায় ১০ মিটার দূরে, যেখানে ভূমির আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল এবং যেখানে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সম্প্রতি মাইন পুঁতে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সেনামুক্ত পশ্চিমাঞ্চলে বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সামরিক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্ত করা এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন রয়েছে।

ধারণা করা হয়, সেনামুক্ত অঞ্চল ও এর আশপাশে প্রায় ২০ লাখ মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। এসব মাইন থেকে মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে সামরিক সদস্যরা আহত হন।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সেনামুক্ত অঞ্চলটি প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত। অঞ্চলটি এখনো ব্যাপকভাবে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে, শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়। ফলে দুই দেশ প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনা ভেঙে যাওয়াকে সম্পর্কের অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

২০২৪ সালে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এরপর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত মাইন পোঁতা এবং ট্যাংকবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নির্মাণে পিয়ংইয়ংয়ের তৎপরতা বেড়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল কওন দে-ওন সতর্ক করে বলেন, তদন্তে যদি উত্তর কোরিয়ার দায় নিশ্চিত হয়, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উপযুক্ত ও সমপর্যায়ের ব্যবস্থা নেবে।

সূত্র : আলজাজিরা

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন