মাত্র ছয় ঘণ্টার গোপন সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের (এমবিজে) সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকে ইরানই ছিল মূল আলোচনার বিষয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছে প্রায় ছয় ঘণ্টা দেশটিতে অবস্থান করেন নেতানিয়াহু। বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে এমবিজের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহু আমিরাতের ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেছিলেন।
আমিরাতের কর্মকর্তারা এই চাপকে ‘বিশেষভাবে তীব্র’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফোনে যোগাযোগের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও বৈঠকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এমনকি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনের বরাতে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে নেতানিয়াহুকে সতর্ক করার যে সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা অস্বীকার করার জন্যও এমবিজেকে অনুরোধ করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের একটি তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। সফরের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। বিষয়টি গোপন রাখার পরিকল্পনা ছিল এবং সফর শেষ হওয়ার পর তা প্রকাশ্যে আনার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সফরটি বাতিল হয়ে যায়।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর উড্ডয়নের কিছুক্ষণ আগে সফর বাতিলের বার্তা আসে।
ওই সূত্রের দাবি, শেষ মুহূর্তে আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান বদলে জানায়, এমবিজে দেশে নেই। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময় তিনি আবুধাবিতেই ছিলেন।
নেতানিয়াহুর চাপের আরেকটি কারণ হিসেবে ৭ অক্টোবরের হামলার আগে এমবিজে তাকে ফোন করে গাজায় একটি ‘ভূমিকম্পের’ মতো পরিস্থিতির সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন; এমন একটি প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক সূত্র দৈনিক মারিভকে বলেন, ছুটির আগের দিন আমিরাত থেকে প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট নয় এমন অস্বীকৃতিটি হয়তো নেতানিয়াহুর সফর বাতিলের বিষয়টি সামাল দেওয়ার চেষ্টা ছিল।
ওই সূত্র আরও বলেন, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত আমিরাত সফর করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তখনো অনিশ্চয়তা ছিল। এমবিজে নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে চান না বলেও সূত্রটি দাবি করে। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।
তবে শেষ পর্যন্ত রোববার নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর অনুষ্ঠিত হয়। সফর আয়োজনের জন্য ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পুরো সময়জুড়েই চাপ অব্যাহত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট








মন্তব্য