জুয়া সাইটগুলোর ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়েছে ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাবগুলো। জুয়া কোম্পানিগুলোর সঙ্গে করা কোটি কোটি ডলারের স্পন্সরশিপ চুক্তি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় ক্লাবগুলো এই অবস্থান নিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা জুয়া সাইট নিষিদ্ধ করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন। এর ফলে নতুন আমানত বা ডিপোজিট জমা দেওয়ার ওপর তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ৬ অক্টোবরের মধ্যে দেশের সব অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে ক্লাবগুলো। সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোর ফুটবল ফেডারেশনসহ বিভিন্ন রাজ্য ফেডারেশন এক যৌথ চিঠিতে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য মরণঘাতী আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ফুটবলপ্রেমীরা এই খেসারত দিতে পারে না। যদি নিয়ন্ত্রিত বাজার শেষ হয়ে যায়, তবে জুয়া বন্ধ হবে না, বরং শেষ হয়ে যাবে ফুটবল।’
তবে প্রেসিডেন্ট লুলা এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে সোমবার বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সোনালী সময়ে তো কোনো জুয়া সাইট ছিল না। ক্লাবগুলোকেই এর সমাধান বের করতে হবে।’
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনভোকাদোস ও আউটফিল্ডের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের শীর্ষ লিগ সিরি আ-এর ক্লাবগুলো অনলাইন বেটিং কোম্পানিগুলো থেকে সরাসরি বিজ্ঞাপন বাবদ ১ বিলিয়ন রিয়েল (প্রায় ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলার) আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদ সিজার গ্রাফিয়েত্তির মতে, এটি ক্লাবগুলোর মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ। তবে স্টেডিয়ামের বিজ্ঞাপন ও সম্প্রচার স্বত্বের মতো অন্যান্য খাত মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে।
রিও ডি জেনেইরোর ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর সভাপতি লুইস এডুয়ার্ডো ব্যাপতিস্তা জানান, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্লাবের রাজস্ব প্রায় ৪০ কোটি রিয়েল পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার ফলে আগামী বছরের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা দলটির জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
ইতোমধ্যে অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ক্লাবগুলো বিকল্প স্পন্সর খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।








মন্তব্য