শাড়িটি গিফট করেছিল, এমন গিফট আমাদের রেগুলার আসে: তানজিন তিশা

শাড়িটি গিফট করেছিল, এমন গিফট আমাদের রেগুলার আসে: তানজিন তিশা

২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় হাজিরা দিতে এসে ছোট পর্দার জনপ্রিয় নাট্য অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেছেন, ‘শাড়িটি আমাকে সে গিফট করেছিল। আর আমাদের রেগুলার এমন গিফট আসে। আমাদের ভিতর কোনো চুক্তি ছিল না।’…

২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় হাজিরা দিতে এসে ছোট পর্দার জনপ্রিয় নাট্য অভিনেত্রী তানজিন তিশা বলেছেন, ‘শাড়িটি আমাকে সে গিফট করেছিল। আর আমাদের রেগুলার এমন গিফট আসে। আমাদের ভিতর কোনো চুক্তি ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আদালতকে অনেক সম্মান করি। আইনের প্রতি আমার যে বিশ্বাস আছে, সেই বিশ্বাস থেকে যদি আদালতে আরও পাঁচবার আসা হয়, আমি আসব। এই মামলায় ন্যায়বিচার নিয়েই আমি এখান থেকে যাব।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় জামিন বর্ধিতের আবেদন ও চার্জগঠন শুনানি  শেষে এসব কথা বলেন তানজিন তিশা। 

তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জামিন বর্ধিতের পরবর্তী তারিখ এবং চার্জ শুনানির তারিখ আদালত থেকে বিকেলে জানা যাবে। 

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তানজিন তিশা বলেন, ‘হয়তো অনেকে মনে করেন, কেন আদালতে আসলাম, বারবার আদালতে আসি। আমি আদালতে বারবার আসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা দুইবোন, একটা সিন্ডিকেট। আমার বিরুদ্ধে একটা মামলা করার পর আইনজীবী আরেকজনকে দিয়ে আরেকটা মামলা করিয়েছেন। এটার পেছনে আর কিছু আছে কিনা জানি না। তবে আমি যেটা জানি, কারও ক্ষমতার অপব্যবহার করা ঠিক নাম বাদীর স্বামী একজন সচিব, পরে আমি জেনেছি। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা নাগরিকরা এভাবে বাঁচতে চায় না, যে কারও ক্ষমতার অপব্যবহার হবে। আর আমার ক্ষমতা হতো দর্শকদের ভালোবাসা।’

অভিনেত্রী বলেন, ‘শাড়িটি আমাকে সে গিফট করা হয়েছিল। আর আমাদের রেগুলার এমন গিফট আসে। আমাদের ভেতর কোনো চুক্তি ছিল না।’

এর আগে গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিশা। এর আগে গত ১২ জুলাই তাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

জামিন পাওয়ার পর তানজিন তিশা বলেছিলেন, ‘২৮ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারও কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজটির এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন।

মামলার পর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। পরে ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন