২০০৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মার্কো মাতোরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুঁশ মারার সেই বিতর্কিত ঘটনায় কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন জিনেদিন জিদানের। উয়েফা নেশন্স লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ফরাসি কোচ।
খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাব দেন জিদান। ফ্রান্স-২৪ এর বরাতে দিয়ে গোলডটকম তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে।
জিদান বলেন, ২০০৬ সালে কী ঘটেছিল, তা মনে করিয়ে দিতে ওই ছবিগুলো সব সময়ই থাকবে, কারণ ভিডিওগুলো তো অনবরত দেখানো হয়।
বহু প্রতীক্ষিত এই ম্যাচের ভেন্যু স্তাদ দ্য ফ্রান্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জিদান আরও যোগ করেন, সৌভাগ্যবশত, ক্যারিয়ারে ওটাই আমার একমাত্র কাজ ছিল না। আরও অনেক সুন্দর ও মহৎ স্মৃতি আছে আমার এবং সে কারণেই ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই বেশি ভাবার চেষ্টা করি আমি।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আমার কোনো অনুশোচনা নেই, কারণ ওটা ছিল আমার খেলোয়াড়ি জীবনেরই একটা অংশ। বার্লিনের সেই রাতের পর মাতোরাজ্জির সঙ্গে তার আর কোনো কথা হয়নি। যে রাতে টাইব্রেকারে জিতেছিল ইতালি।
জিদান বলেন, ২০০৬ সালে আমি জানতাম না যে ভবিষ্যতে কোচ হবো। ভেবেছিলাম সেখানেই সবকিছুর শেষ, তাই সময়টা আমার জন্য ভীষণ কঠিন ছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেটা ঘটেছিল, তা নিয়ে আমি গর্বিত নই। কথাটা আমি বারবারই বলেছি। তবে এটাও ঠিক, এটি আমার ক্যারিয়ারেরই অংশ, আর জীবনের সব গল্প তো শুধু দুর্দান্ত সুন্দর হতে পারে না।
৫৪ বছর বয়সী জিদান গত জুলাইয়ের শেষ দিকে ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব নেন। টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করা সাবেক জাতীয় দল সতীর্থ দিদিয়ে দেশমের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ ফরাসিদের হয়ে নিজের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেছেন বিদেশ সফর দিয়ে। যেখানে নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টের জয়ের পর বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও একই ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরেছে তার দল।
ইতালির ম্যাচ দিয়ে আবারও স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফিরছেন জিদান, যেখানে ফরাসি সমর্থকদের কাছে তিনি চিরকালই এক আবেগ ও প্রতীকের নাম। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের এই জাতীয় স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার আসনের গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: গোলডটকম।








মন্তব্য