কুমিল্লায় ৬ ঘণ্টার অভিযানে ৩৫১ জন আটক, ২১৯ জনকে মুচলেকায় মুক্তি
অভিযান শেষে মুচলেকায় ২১৯ জনকে পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি · কুমিল্লা
প্রকাশ:
কুমিল্লায় একযোগে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টার এই অভিযানে মোট ৩৫১ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি ২১৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আজ শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলার ১৮টি থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা দুই রাতের অভিযানে ৪৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২৩ অক্টোবর আটক ২৭৫ জনের মধ্যে ১৪২ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ২২ অক্টোবর আটক হয়েছিলেন ১৭৫ জন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আছে এমন স্থানগুলোর পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, “আটক ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর জেলায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।