শরীয়তপুরের পদ্মায় ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে বড় পাঙাশ
ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষ হওয়ার পর দুই দিন ধরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ৫ থেকে ১২ কেজি ওজনের পাঙাশ
শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি · নড়িয়া, শরীয়তপুর
প্রকাশ:
ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে বড় পাঙাশ ধরা পড়ছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত জেলেরা নদী থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করছেন। প্রতিটি পাঙাশের ওজন ৫ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
বিজ্ঞাপন
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৩ হাজার জেলে রয়েছেন। ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন, যদিও কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই তারা জাল ফেলা শুরু করেছিলেন।
নড়িয়ার সুরেশ্বর মাছবাজারে শুক্রবার সকালে ৫০টি জেলে নৌকায় মাছ নিয়ে আসতে দেখা যায়। বাজারের ৪০টি পাইকারি আড়তে এসব মাছ বিক্রি হয়, যা পরে ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে অন্তত ৮০০টি পাঙাশ বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার শীবসেন এলাকার জেলে লোকমান হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার সারা রাত পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে তিনি ছয়টি পাঙাশ পেয়েছেন। প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের এই মাছগুলো তিনি প্রতি কেজি ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে মোট ৪০ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। দুই দিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জেলেদের ভাষ্যমতে, নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, নওপাড়া, ঘড়িসার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা, তারাবুনিয়া ও চরভাগা এলাকায় পাঙাশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। সংগৃহীত মাছ সুরেশ্বর, চণ্ডীপুর, নড়িয়া, চরভাগা ও নরসিংহপুরের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছরও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষে টানা সাত দিন জেলেদের জালে এভাবে প্রচুর পাঙাশ ধরা পড়েছিল।
বিজ্ঞাপন
শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, এত বেশিসংখ্যক পাঙাশ ধরা পড়ার ঘটনা কিছুটা ব্যতিক্রম। ইলিশের সঙ্গে সমুদ্র থেকে পাঙাশ মাছ নদীর মিঠাপানিতে চলে আসায় জেলেরা জাল ফেললেই পাঙাশ পাচ্ছেন। সুরেশ্বর মাছবাজারের ব্যবসায়ী ও জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন বকাউল জানান, গত বছরও সপ্তাহব্যাপী জেলেদের জালে অনেক পাঙাশ ধরা পড়েছিল।