অগ্রণী ব্যাংকে ৩১৫ গ্রাহকের হিসাবের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না
আমানতের অর্থ ফেরত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের মানববন্ধন
মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি · শ্রীনগর, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশ:
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় অগ্রণী ব্যাংকের ৩১৫ জন গ্রাহকের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, তাঁরা যথাযথ নিয়ম মেনেই ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তাঁদের সেই হিসাবের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আমানতকারীরা তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছেন না।
বিজ্ঞাপন
আজ রোববার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আমানতের অর্থ ফেরত ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। বেলা দুইটায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম ওরফে রাখী। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ভুক্তভোগীরা লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রীনগর শাখায় সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে বহু গ্রাহক তাঁদের সঞ্চিত অর্থ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অনেকে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয়, অবসরকালীন অর্থ এবং ব্যবসার মূলধন ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবেদনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই গ্রাহকরা যেন তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনের পর ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক জাফরিন আলম বলেন, ‘আমি নিজে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। মোবাইলে জমা হওয়ার বার্তা এসেছে। আরেক দফায় আরও ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। তখন বার্তা না আসায় ব্যাংকে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, সফটওয়্যারের সমস্যা। আমার মতো এমন ভুক্তভোগী অনেকেই আছেন। আমরা টাকা ফেরত চাই ও প্রতারক চক্রের শাস্তি চাই।’
ব্যাংকটির আরেক গ্রাহক ফারহানা আলম জানান, তিনি দুই দফায় তিন লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করেছিলেন এবং তাঁর কাছে জমার রসিদও রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শাখার কর্মকর্তাদের বাঁচাতে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখন এমন কথা বলছেন যেন আমরা ব্যক্তিগত লেনদেন করেছি। আমরা টাকা ফেরত চাই।’ তিনি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলমের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীরা তাঁদের সাত দফা দাবিতে শ্রীনগর শাখার আর্থিক জালিয়াতি ও অনিয়মের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানত ও আর্থিক ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া বৈধ ও প্রমাণিত আমানতের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও ব্যাংকিং বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের দাবির বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জানান, ঘটনাটি দুই মাস আগের। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শেষে মামলা করেছে এবং ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক গ্রাহক টাকা ফেরত পাবেন, তবে তার আগে টাকা জমা হওয়ার সত্যতা পরীক্ষা করতে হবে এবং সেই কাজই এখন চলছে।