জিডিপির হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, জানালেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
ফরেনসিক অডিটে নৌযানের সংখ্যা ১৩ হাজার থেকে ২ লাখ ৬৭ হাজারে বৃদ্ধি পাওয়া প্রকাশিত হয়েছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
রবিবার জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি গরমিলপূর্ণ জিডিপি হিসাবের কথা জানালেন। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে পূর্ব সরকারের পরিসংখ্যানের অসঙ্গতি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, আর স্বাগত বক্তব্য দিলেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। এছাড়া বিবিএসের পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হকও আলোচনায় অংশ নিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন, "প্রশ্নবিদ্ধ পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো কাজ করা যায় না। এটি নিজের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো তথ্য, তাই বিবিএসকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। জনবলের ঘাটতির বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ফরেনসিক অডিট অতীতের অনিয়মের গভীরে যাওয়ার জন্য, কাউকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য নয়; তথ্য যত বেশি উন্মুক্ত হবে, তত বেশি ভুল ও অসংগতি সামনে আসবে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য ও ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরি তথ্য অনেক শক্তিশালী।" তিনি যুক্তি দেন, সঠিক পরিসংখ্যান দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, বিগত সরকারের সময়ে পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একধরনের বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জিডিপির হিসাবসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসংগতি পাওয়া গেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্যেও ব্যাপক গরমিল ছিল; সহায়তা পাওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদের অনেকে তা পাননি। তিতুমীর আরও বলেন, নৌযানের সংখ্যা আগে ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল, কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে প্রকৃত সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের অসংগতি দূর করতে ডিজিটাল রেজিস্টার বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে মিথ্যা তথ্যের একধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ চলছে।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, তথ্য ছাড়া দেশ কোথায় আছে, কোথায় যেতে চায় কিংবা কোথায় ভুল হচ্ছে তা বোঝা সম্ভব নয়। তিনি জিডিপি গরমিলের প্রমাণও উল্লেখ করে বলেন, ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে পূর্ব সরকারের পরিসংখ্যানের অসঙ্গতি উন্মোচন করা হয়েছে। সিপিআইসহ বিভিন্ন তথ্য এখন বিবিএস নিজেই প্রকাশ করছে, মন্ত্রীর স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়ছে না।