আল্লাহর ৯৯ নাম অর্থসহ: আসমাউল হুসনা আরবি ও বাংলায়
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ:
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, এক কম এক শ। যে এগুলো আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই নামগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় "আসমাউল হুসনা", অর্থাৎ সুন্দরতম নামসমূহ। কোরআনের সূরা আরাফের ১৮০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ, সেসব নামে তাঁকে ডাকো।
বিজ্ঞাপন
একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা দরকার। বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে ৯৯ সংখ্যাটি আছে, কিন্তু নামগুলোর তালিকা নেই। আমাদের দেশে প্রচলিত তালিকাটি এসেছে তিরমিজির একটি বর্ণনা থেকে। অনেক মুহাদ্দিসের মতে তালিকাটি পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারীর সংকলন, সরাসরি মহানবী (সা.)-এর মুখের তালিকা নয়। তবে তালিকার নামগুলো কোরআন ও হাদিসের আলোকে আল্লাহর গুণ হিসেবেই প্রমাণিত, তাই এগুলো শেখা ও এসব নামে আল্লাহকে ডাকায় কোনো সমস্যা নেই।
আলেমরা আরও বলেছেন, আল্লাহর নাম ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ নয়। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত দুশ্চিন্তা দূর করার একটি দোয়ায় এমন নামের কথাও এসেছে, যা আল্লাহ নিজের অদৃশ্য জ্ঞানে গোপন রেখেছেন। হাদিসের উদ্দেশ্য হলো, এই ৯৯টি নাম আয়ত্ত করার বিশেষ পুরস্কার।
"আয়ত্ত করা" মানে কী
হাদিসে ব্যবহৃত আরবি শব্দ "আহসাহা"। আলেমরা এর তিনটি স্তর ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথম স্তর হলো নামগুলো মুখস্থ ও সঠিকভাবে উচ্চারণ করা। দ্বিতীয় স্তর হলো অর্থ বোঝা এবং আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস রাখা। তৃতীয় স্তর হলো নামগুলোর দাবি অনুযায়ী জীবন গড়া। যেমন, আল্লাহ "আর-রাজ্জাক" জানলে রিজিকের জন্য হারাম পথে না যাওয়া, "আস-সামি" জানলে মুখের কথায় সংযত থাকা। শুধু মুখস্থ নয়, এই উপলব্ধিই প্রকৃত আয়ত্ত।
বিজ্ঞাপন
আল্লাহর ৯৯ নাম অর্থসহ
তালিকার বাংলা উচ্চারণ সহায়ক মাত্র। আরবি শব্দগুলোর সঠিক উচ্চারণ কোনো শিক্ষকের কাছে শুনে নিন।
১. আর-রাহমান (الرحمن): পরম দয়াময়।
২. আর-রাহিম (الرحيم): অসীম দয়ালু।
বিজ্ঞাপন
৩. আল-মালিক (الملك): সার্বভৌম অধিপতি।
৪. আল-কুদ্দুস (القدوس): মহাপবিত্র।
৫. আস-সালাম (السلام): শান্তিদাতা, সব ত্রুটি থেকে মুক্ত।
৬. আল-মুমিন (المؤمن): নিরাপত্তাদাতা।
বিজ্ঞাপন
৭. আল-মুহাইমিন (المهيمن): রক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক।
৮. আল-আজিজ (العزيز): পরাক্রমশালী।
৯. আল-জাব্বার (الجبار): প্রবল, যিনি ভাঙা অবস্থাকে জোড়া লাগান।
১০. আল-মুতাকাব্বির (المتكبر): শ্রেষ্ঠত্বের একচ্ছত্র অধিকারী।
বিজ্ঞাপন
১১. আল-খালিক (الخالق): সৃষ্টিকর্তা।
১২. আল-বারি (البارئ): অস্তিত্বদানকারী।
১৩. আল-মুসাওয়ির (المصور): আকৃতিদানকারী।
১৪. আল-গাফফার (الغفار): বারবার ক্ষমাকারী।
বিজ্ঞাপন
১৫. আল-কাহহার (القهار): সবকিছুর ওপর প্রবল।
১৬. আল-ওয়াহহাব (الوهاب): মহাদাতা।
১৭. আর-রাজ্জাক (الرزاق): রিজিকদাতা।
১৮. আল-ফাত্তাহ (الفتاح): কল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী ও মীমাংসাকারী।
বিজ্ঞাপন
১৯. আল-আলিম (العليم): সর্বজ্ঞ।
২০. আল-কাবিদ (القابض): সংকুচিতকারী।
২১. আল-বাসিত (الباسط): প্রশস্তকারী।
২২. আল-খাফিদ (الخافض): অবনতকারী।
বিজ্ঞাপন
২৩. আর-রাফি (الرافع): উন্নতকারী।
২৪. আল-মুইজ্জ (المعز): সম্মানদাতা।
২৫. আল-মুজিল্ল (المذل): লাঞ্ছনাদাতা।
২৬. আস-সামি (السميع): সর্বশ্রোতা।
বিজ্ঞাপন
২৭. আল-বাসির (البصير): সর্বদ্রষ্টা।
২৮. আল-হাকাম (الحكم): চূড়ান্ত বিচারক।
২৯. আল-আদল (العدل): ন্যায়পরায়ণ।
৩০. আল-লাতিফ (اللطيف): সূক্ষ্মদর্শী ও কোমল।
বিজ্ঞাপন
৩১. আল-খাবির (الخبير): সব বিষয়ে অবগত।
৩২. আল-হালিম (الحليم): সহনশীল।
৩৩. আল-আজিম (العظيم): মহান।
৩৪. আল-গাফুর (الغفور): ক্ষমাশীল।
বিজ্ঞাপন
৩৫. আশ-শাকুর (الشكور): গুণগ্রাহী, অল্প আমলে বেশি প্রতিদান দেন।
৩৬. আল-আলিয়্যু (العلي): সর্বোচ্চ।
৩৭. আল-কাবির (الكبير): সুমহান।
৩৮. আল-হাফিজ (الحفيظ): সংরক্ষণকারী।
বিজ্ঞাপন
৩৯. আল-মুকিত (المقيت): আহার ও শক্তির জোগানদাতা।
৪০. আল-হাসিব (الحسيب): হিসাব গ্রহণকারী, বান্দার জন্য যথেষ্ট।
৪১. আল-জালিল (الجليل): মহিমাময়।
৪২. আল-কারিম (الكريم): মহানুভব দাতা।
বিজ্ঞাপন
৪৩. আর-রাকিব (الرقيب): সতর্ক পর্যবেক্ষক।
৪৪. আল-মুজিব (المجيب): ডাকে সাড়াদানকারী।
৪৫. আল-ওয়াসি (الواسع): সর্বব্যাপী ও প্রাচুর্যময়।
৪৬. আল-হাকিম (الحكيم): প্রজ্ঞাময়।
বিজ্ঞাপন
৪৭. আল-ওয়াদুদ (الودود): প্রেমময়।
৪৮. আল-মাজিদ (المجيد): গৌরবময়।
৪৯. আল-বাইস (الباعث): পুনরুত্থানকারী।
৫০. আশ-শাহিদ (الشهيد): সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী।
বিজ্ঞাপন
৫১. আল-হাক্ক (الحق): পরম সত্য।
৫২. আল-ওয়াকিল (الوكيل): ভরসাস্থল ও কর্মবিধায়ক।
৫৩. আল-কাওয়িয়্যু (القوي): মহাশক্তিমান।
৫৪. আল-মাতিন (المتين): সুদৃঢ়।
বিজ্ঞাপন
৫৫. আল-ওয়ালিয়্যু (الولي): অভিভাবক ও বন্ধু।
৫৬. আল-হামিদ (الحميد): প্রশংসিত।
৫৭. আল-মুহসি (المحصي): সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণকারী।
৫৮. আল-মুবদি (المبدئ): প্রথমবার সৃষ্টিকারী।
বিজ্ঞাপন
৫৯. আল-মুইদ (المعيد): পুনরায় সৃষ্টিকারী।
৬০. আল-মুহয়ি (المحيي): জীবনদাতা।
৬১. আল-মুমিত (المميت): মৃত্যুদাতা।
৬২. আল-হাইয়্যু (الحي): চিরঞ্জীব।
বিজ্ঞাপন
৬৩. আল-কাইয়্যুম (القيوم): সবকিছুর ধারক।
৬৪. আল-ওয়াজিদ (الواجد): অভাবহীন, যিনি যা চান তা-ই পান।
৬৫. আল-মাজিদ (الماجد): মহামর্যাদাবান।
৬৬. আল-ওয়াহিদ (الواحد): এক।
বিজ্ঞাপন
৬৭. আল-আহাদ (الأحد): অদ্বিতীয়।
৬৮. আস-সামাদ (الصمد): অমুখাপেক্ষী, সবাই যাঁর মুখাপেক্ষী।
৬৯. আল-কাদির (القادر): সর্বশক্তিমান।
৭০. আল-মুকতাদির (المقتدر): পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী।
বিজ্ঞাপন
৭১. আল-মুকাদ্দিম (المقدم): অগ্রসরকারী।
৭২. আল-মুআখখির (المؤخر): পিছিয়ে দেওয়ার মালিক।
৭৩. আল-আওয়াল (الأول): আদি, যাঁর আগে কিছু নেই।
৭৪. আল-আখির (الآخر): অন্ত, যাঁর পরে কিছু নেই।
বিজ্ঞাপন
৭৫. আজ-জাহির (الظاهر): প্রকাশ্য, সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
৭৬. আল-বাতিন (الباطن): গোপন, সবকিছুর নিকটে।
৭৭. আল-ওয়ালি (الوالي): কর্তৃত্বশীল শাসক।
৭৮. আল-মুতাআলি (المتعالي): সর্বোচ্চ মর্যাদাবান।
বিজ্ঞাপন
৭৯. আল-বার্র (البر): পরম কল্যাণকারী।
৮০. আত-তাওয়াব (التواب): তওবা কবুলকারী।
৮১. আল-মুনতাকিম (المنتقم): অপরাধীদের শাস্তিদাতা।
৮২. আল-আফুউ (العفو): গুনাহ মুছে দেওয়া ক্ষমাকারী।
বিজ্ঞাপন
৮৩. আর-রাউফ (الرءوف): পরম স্নেহশীল।
৮৪. মালিকুল মুলক (مالك الملك): সব রাজত্বের মালিক।
৮৫. জুল জালালি ওয়াল ইকরাম (ذو الجلال والإكرام): মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী।
৮৬. আল-মুকসিত (المقسط): ন্যায়বিচারক।
বিজ্ঞাপন
৮৭. আল-জামি (الجامع): একত্রকারী।
৮৮. আল-গানিয়্যু (الغني): অভাবমুক্ত।
৮৯. আল-মুগনি (المغني): অভাবমুক্তকারী।
৯০. আল-মানি (المانع): প্রতিরোধকারী।
বিজ্ঞাপন
৯১. আদ-দার্র (الضار): ক্ষতির ক্ষমতার মালিক।
৯২. আন-নাফি (النافع): কল্যাণদাতা।
৯৩. আন-নুর (النور): আলো।
৯৪. আল-হাদি (الهادي): পথপ্রদর্শক।
বিজ্ঞাপন
৯৫. আল-বাদি (البديع): নমুনা ছাড়াই অভিনব সৃষ্টিকারী।
৯৬. আল-বাকি (الباقي): চিরস্থায়ী।
৯৭. আল-ওয়ারিস (الوارث): সবকিছুর চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী।
৯৮. আর-রাশিদ (الرشيد): সঠিক পথে পরিচালনাকারী।
বিজ্ঞাপন
৯৯. আস-সাবুর (الصبور): মহাধৈর্যশীল।
জোড়া নামগুলো একসঙ্গে বলার কারণ
তালিকায় কিছু নাম আছে, যেগুলো জোড়ায় এসেছে: আল-কাবিদ ও আল-বাসিত, আল-খাফিদ ও আর-রাফি, আল-মুইজ্জ ও আল-মুজিল্ল, আদ-দার্র ও আন-নাফি, আল-মুকাদ্দিম ও আল-মুআখখির। আলেমরা পরামর্শ দেন, এ ধরনের নাম আলাদা করে না বলে জোড়া হিসেবে বলা উত্তম। কারণ আল্লাহর পূর্ণতা প্রকাশ পায় দুটি দিক একসঙ্গে বললে: তিনি সংকুচিতও করেন, প্রশস্তও করেন; ক্ষতি ও কল্যাণ দুটিই তাঁর নিয়ন্ত্রণে, তবে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রজ্ঞা আছে।
দোয়ায় আল্লাহর নাম ব্যবহার
বিজ্ঞাপন
প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নাম ধরে ডাকলে দোয়া আরও অর্থবহ হয়। ক্ষমা চাইলে "ইয়া গাফুর, ইয়া গাফফার", রিজিকের প্রয়োজনে "ইয়া রাজ্জাক, ইয়া ওয়াহহাব", বিপদে "ইয়া হাফিজ", পথ হারালে "ইয়া হাদি", আর তওবার সময় "ইয়া তাওয়াব"। তিরমিজির হাদিসে মহানবী (সা.)-এর একটি দোয়া আছে: "ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, বিরাহমাতিকা আসতাগিস", হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক, তোমার রহমতের ওসিলায় সাহায্য চাই।
নাম রাখার ক্ষেত্রে সতর্কতা
আমাদের দেশে আল্লাহর নামের আগে "আবদ" যোগ করে নাম রাখা হয়, যেমন আবদুর রহমান, আবদুল খালিক, আবদুর রাজ্জাক, অর্থাৎ পরম দয়াময়ের বান্দা, স্রষ্টার বান্দা, রিজিকদাতার বান্দা। এসব নাম অত্যন্ত সুন্দর। সমস্যা হয় ডাকার সময়। "আবদ" বাদ দিয়ে কাউকে শুধু "রহমান", "খালেক" বা "রাজ্জাক" বলে ডাকা আলেমরা নিষেধ করেছেন, কারণ এসব নাম কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। পুরো নাম ধরে বা অন্য সম্মানজনক ডাকনামে ডাকুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বিজ্ঞাপন
আল্লাহর নাম কি শুধু ৯৯টি?
না। হাদিসে ৯৯টি নাম আয়ত্ত করার ফজিলত বলা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহর নাম এর বেশি। কোরআন-হাদিসে তালিকার বাইরেও আল্লাহর নাম এসেছে।
৯৯ নামের তালিকা কি সব বইয়ে একই?
বেশির ভাগ বইয়ে তিরমিজির তালিকা অনুসরণ করা হয়, তবে কিছু আলেম কোরআন-হাদিস থেকে নিজস্ব তালিকা তৈরি করেছেন, তাই কয়েকটি নামে পার্থক্য দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
৯৯ নাম মুখস্থ করার সহজ উপায় কী?
প্রতিদিন পাঁচটি নাম অর্থসহ মুখস্থ করুন। তিন সপ্তাহে পুরো তালিকা আয়ত্তে আসবে। সঙ্গে প্রতিটি নামের অর্থ নিয়ে একটু ভাবুন।