বৃষ্টির সময় পড়ার দোয়া ও এর ফজিলত
বৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ রহমত ও কুদরতের নিদর্শন, যা জমিনকে সজীব করে তোলে
ধর্ম ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামত, যার মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায় এবং ফসল উৎপাদিত হয়। মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন প্রকাশ করেন। পবিত্র কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর কুদরতের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনদের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পাঠ করা।
বিজ্ঞাপন
বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার একটি সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ দোয়া রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে পড়তেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি দেখতেন, তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ।’ এই দোয়ার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে উপকারী বৃষ্টি কামনা করতেন, কারণ সব বৃষ্টি সমানভাবে কল্যাণকর হয় না। অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে, তাই 'সাইয়িবান নাফিআ' বলে মুমিন এমন বৃষ্টির প্রার্থনা করেন যা জীবন ও জীবিকার জন্য কল্যাণকর।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে বৃষ্টির গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই তাঁর রহমতের আগে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। আর আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করি।’ এছাড়া সুরা আল-আরাফের ৫৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ বাতাস পাঠিয়ে ভারী মেঘ চালিত করেন এবং মৃত জনপদে পানি বর্ষণ করে নানা ধরনের ফল উৎপন্ন করেন।
বৃষ্টির সময় আল্লাহর প্রতি বিরক্তি প্রকাশ না করে কৃতজ্ঞতা জানানো মুমিনের কর্তব্য। হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির সময় নিজের শরীরের কিছু অংশ বৃষ্টির পানিতে ভেজাতেন। সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ এটি মাত্রই তার রবের কাছ থেকে এসেছে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৯৮)।
বৃষ্টি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য নেয়ামত, যা জমিনকে সজীব ও প্রাণীকুলের জীবনধারণের উপকরণ জোগান দেয়। তাই বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই দোয়ার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি প্রার্থনা করি, যা পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।