পারসা বিয়ের খবর জানালেন, বরের পরিচয় জানতে ভয় পাবেন না
বিবাহ ২৬ অক্টোবর বিদেশে সম্পন্ন, ভিসা সমস্যার কারণে পরিবার উপস্থিত না, ছবিতে ফুলে মুখ ঢাকা
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার পারশা মাহজাবিন বিয়ের খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে অনন্য অনুরোধ রাখলেন। তিনি বলেছেন, ‘বরের পরিচয় জানতে চেয়ে আমাকে বা আমার পরিবারকে বিব্রত করবেন না’। বরকে গোপন রাখার জন্য তিনি ছবিতে ফুল ব্যবহার করে মুখ ঢাকা রেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
পারশা জানান, বিবাহটি গত ২৬ অক্টোবর দেশের বাইরে সম্পন্ন হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে পারশার পরিবারের কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে ছেলের পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে বাকি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবাহের খবর জানালেও পারশা আপাতত স্বামীর পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। তিনি বলেন, ‘আমি যদি নাম বলি, তাহলে সবাই তাঁকে চিনে ফেলবে। তাই আপাতত বলতে চাইছি না। আর পরিচয়টা সামনে আনতে চাই না বলেই ছবিতে ফুল দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখেছি। আমি তাঁকে ‘প্রিয়’ বলে ডাকি, সেও আমাকে ‘প্রিয়’ বলে’।
প্রায় এক বছর আগে, বিদেশে ঘুরতে গিয়ে দুজনের পরিচয় হয় এবং কথাবার্তা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নিজের পছন্দের কথা পরিবারকে জানাতে পারশা সাহসী ছিলেন এবং পরিবারের কোনো আপত্তি ছিল না।
বরের মুখ ঢেকে রাখার বিষয়টি নিয়ে পারশা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সমাজে নারীর মুখ ঢাকা নিয়ে যতটা স্বাভাবিকতা আছে, পুরুষের ক্ষেত্রে ততটা নেই। ইহুদি বিয়ের ‘বাদেকেন’ বা খ্রিষ্টান বিয়ের ‘ব্রাইডাল ভেইল’, হিন্দু ও মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ঘোমটা, কনের মুখ ঢাকা আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক দৃশ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘মার ফেসবুক পোস্টে ছবির নিচে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘দা কুমড়োর ওপর পড়ুক বা কুমড়ো দায়ের ওপর, ফলাফল একটাই।’ মন্তব্যটা আমার দারুণ লেগেছে। বিয়েটা তো আমাদের দুজনেরই হয়েছে, মুখ কার ঢাকা থাকল, তাতে ফলাফল বদলাচ্ছে না!’
বিজ্ঞাপন
ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাধীনতার দৃষ্টিকোণ থেকে পারশা বলেন, ‘কেউ নিজের ইচ্ছায় পর্দা করলে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি তখনই, যখন সেই ইচ্ছার জায়গাটা অন্য কেউ দখল করে নেয়। নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা উপস্থিতিকে পুরুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য দায়ী করার যুক্তিটাও আমার কাছে অদ্ভুত। সেই যুক্তিতে পুরুষের সৌন্দর্যও তো আড়াল করে রাখা উচিত! আমি শুধু এক দিনের জন্য প্রচলিত দৃশ্যটা উল্টে দিয়েছি। তাতেই এত অস্বস্তি হলে প্রশ্নটা বোধ হয় আমার ছবিতে নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।’
হঠাৎ বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনে পারশা তার জীবনের প্রথম ও সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার স্থান—বাবাকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বাবার আদর ও আগলে রাখার মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার কাছ থেকে পাওয়া নির্ভরতা ও স্বাধীনতা আমার জীবনসঙ্গী নির্বাচনের মানদণ্ড তৈরি করেছে।
আমার বাবা আমাকে এতটাই আগলে রেখেছেন যে দৈনন্দিন জীবনের অনেক সংগ্রাম আমাকে কখনো ছুঁতেই হয়নি। তাই জীবনসঙ্গীর কাছে আমার প্রত্যাশা বরাবরই একটু বেশি। এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যাঁর কাছে আমি আমার বাবার মতোই নিরাপদ, আদরে আর নিশ্চিন্তে থাকতে পারব।
সৌভাগ্যক্রমে, বাবার প্রায় জেরক্স কপি পেয়ে গেছি! তবে শুধু আমাকে ভালোবাসলেই চলবে না। আমি এমন একজন মানুষ চেয়েছি, যিনি মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি, প্রকৃতি এবং প্রতিটি প্রাণের প্রতি সংবেদনশীল।
বিজ্ঞাপন
যাঁর সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য থেকে শুরু করে জীবনের জটিলতম প্রশ্ন নিয়েও তর্ক করা যায়। যাঁর মানবিকতা শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নয়, আচরণেও প্রকাশ পায়।’
পারশা জীবনসঙ্গী নির্বাচনে স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাকে গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো এমন পুরুষ খুঁজিনি, যিনি আমাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেবেন। আমি এমন একজনকে খুঁজেছি, যিনি কখনোই আমার মাথা থেকে সেই মুকুট খুলে রাখতে বলবেন না।’
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ গান গেয়ে আলোচনায় আসা পারশা মাহজাবিন, সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও পরিচিত জেন-জি শিল্পী। এবার বিয়ের খবর জানিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেও, আপাতত নিজের জীবনসঙ্গীকে পরিচয়ের আড়ালেই রাখতে চান।