বিএসইসি তদন্তে, দুই এসএমই কোম্পানির ১৭ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে
বিএসইসি ২ নভেম্বর দুইটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবহার যাচাই করবে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
শেয়ারবাজারে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানি—কৃষিবিদ সিড এবং ওয়েব কোটস—মোট ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে বলে জানা যায়। কৃষিবিদ সিড ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ওয়েব কোটস ৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছিল। কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহের পর তা যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপিত হওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, ২ নভেম্বর দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কৃষিবিদ সিডের তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেন। ওয়েব কোটসের তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।
বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না তা বিশদভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোম্পানিগুলো দাখিল করা আর্থিক বিবরণী যাচাই করে, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে কোন প্রকল্প, সম্পদ বা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তা সরেজমিনে নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত দলকে কিউআইওর অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির আদেশে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায় তবে তা জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা, এবং কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক ইত্যাদির ভূমিকা কী ছিল তা তদন্ত দলকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে হবে।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড এসএমই বোর্ডে ২০২২ সালে এবং ওয়েব কোটস ২০২৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির আগে উভয় কোম্পানি কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করবে এবং কত দিনের মধ্যে ব্যয় করবে তার পরিকল্পনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছিল।