নিউগিনি প্রকল্পের হামলার সমন্বয়ক যুবরাজ ধরা পড়েনি
হামলার জন্য এক কোটি টাকার চুক্তি এবং আটজনের জামিনে মুক্তি হয়েছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
২৬ সেপ্টেম্বর রাতে, ঢাকা শহরের ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের আবাসিক প্রকল্পে এক দল দ্বারা হামলা চালানো হয়। হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওয়েও ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
বিজ্ঞাপন
হামলার পরিকল্পনা এক কোটি টাকার চুক্তি নিয়ে মিরপুরের দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে করা হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রের মতে, ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের বাহিনীর সদস্য যুবরাজ সমন্বয় করেন।
ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে ১৩ জন ব্যক্তি হামলার বিষয়ে পরিকল্পনা করেন এবং মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে এক কোটি টাকার চুক্তি করেন। এরপর ইব্রাহিম লোকজন সংগ্রহ করে হামলার দায়িত্ব যুবরাজকে দেন।
হামলার ঘটনার রাতেই সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি দৃশ্যবর্ণনা করেন। ভিডিও প্রকাশের পর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলায় জড়িত আরও ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করার প্রচেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাদের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ডিবির গুলশান বিভাগের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, "হামলায় শতাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেককে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
নিউগিনি প্রকল্পে হামলা চালানোর জন্য এক কোটি টাকার চুক্তিতে সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের ভাষ্য অনুসারে, মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোকজন পাঠিয়ে হামলা করান এবং মিরপুরের মামুন বাহিনীর সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, ইসিবি চত্বরের খাবারের দোকানে পরিকল্পনা করার সময় শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে শাহরিয়ার মাহমুদ জামিনে আছেন।
৩ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, নিউগিনি আবাসিক প্রকল্পের কিছু ভবনের নির্মাণকাজ চলমান, তবে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এখনো মেরামত করা হয়নি; জিনিসপত্র মেঝেতে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে।
বিজ্ঞাপন
৩১ অক্টোবর, ঢাকা মহাখালীর এসকেএস টাওয়ার স্টার সিনেপ্লেক্সে একটি সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে, সালমান মুক্তাদির বলেন, "আমি আর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন না।"
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, হামলা করে ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করার দায়িত্ব শাহরিয়ারকে দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য তাকে উপহার হিসেবে ওই জমিতে ভবন করার সময় একটি ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর, পাশাপাশি ইট-বালু সরবরাহের কাজও তাকে দেওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীরও ওই জমিতে কন্ডোমিনিয়াম তৈরির চেষ্টা ছিল, কিন্তু চলাচলের কোনো রাস্তা না থাকায় ফটক ভেঙে রাস্তা বের করার পরিকল্পনা করা হয়।
হামলার পরে, একই সূত্র আবার জানান যে ফটক ভেঙে চলাচলের রাস্তা বের করার দায়িত্ব শাহরিয়ারকে দেওয়া হয় এবং উপহার হিসেবে ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি ও ইট-বালু সরবরাহের কাজ তাকে দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়; পরে তিনি জামিন পেয়ে গেছেন।
নিউগিনি আবাসিক প্রকল্পের মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়ে বলেন, "জামিনে বেরিয়ে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে। আবার বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি।" তিনি গৃহস্থ ডায়েরি (জিডি) দাখিলের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি আরও বলেন, আওয়ামি লীগ সরকারের সময় তাকে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত বলে মামলা করা হয়েছিল, এখন তাকে ফ্যাসিস্ট বলা হচ্ছে।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পেছনের ব্যক্তিরা এখনো ধরা পড়েননি।