কেরানীগঞ্জে ‘স্নেহের বন্ধন’-এর ৩৭ টিকিটের ৩৫টিই কিনলেন সিনেমার লোকজন
মুক্তির প্রথম দিনে ‘কাটপিস’-এর টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র আটটি, ‘স্নেহের বন্ধন’ চলছে আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে নতুন মুক্তি পাওয়া দুটি ছবি ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাটপিস’ উৎসবের মৌসুমেও দর্শকখরায় ভুগছে। মুক্তির প্রথম দিন সন্ধ্যার একটি প্রদর্শনীতে ‘স্নেহের বন্ধন’-এর ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টিই কিনেছেন ছবিটির নিজস্ব দলের লোকজন, সাধারণ দর্শক ছিলেন মাত্র দুজন। একই দিনে ‘কাটপিস’-এর টিকিট বিক্রি হয়েছে মোট আটটি।
বিজ্ঞাপন
লায়ন সিনেমাসের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক জানান, মুক্তির প্রথম দিনে ছবি দুটির একাধিক প্রদর্শনীতে কোনো দর্শকই আসেননি। শনিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত দুটি প্রদর্শনীতে একটি টিকিটও বিক্রি হয়নি।
সিনেমাটি মুক্তির পর চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেজে নানা ধরনের প্রচারণামূলক দাবি দেখা যায়। কোনো পেজে বলা হয়, ছবি দেখে দর্শক কাঁদতে কাঁদতে হল থেকে বের হচ্ছেন। কোথাও আবার ছবিটিকে পরিবার নিয়ে দেখার মতো সিনেমা হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে প্রচারণার এই চিত্রের সঙ্গে হলের টিকিট বিক্রির হিসাবের মিল নেই।
মির্জা আবদুল খালেকের মতে, মুক্তির আগে প্রচারণায় টাকা খরচ করেও দর্শক টানতে না পারলে সেই উদ্যোগের ফল পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের সিনেমা চালানোর অনুরোধ যখন আমাদের করা হয়, তখন একটা কথাই বলি-সিনেমা চালানোর আগে পোস্টার ছাপানোসহ প্রচারণার নানা কাজে তো টাকাপয়সা খরচ হয়। এই ধরনের সিনেমা বানিয়ে একধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, আবার মুক্তির আগেও খরচ।
অনুরোধ না করলে আমারও ছবিটি চালাতে হয় না। এতে বিদ্যুৎ, এসির খরচসহ আরও নানা খরচ থেকে বেঁচে যাই। কিন্তু কে শোনে কার কথা! তারা যদি ছবি না চালাত, আমারও লোকসান একটু কম হতো।’
বিজ্ঞাপন
হলে দর্শক না আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এই প্রেক্ষাগৃহমালিক আরও বলেন, ‘সারা দিন শোতে কোনো টিকিট বিক্রি নাই। শনিবার সন্ধ্যায় ৩৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার ৩৫টি সিনেমার মানুষদের! এমনটা করে দেশের সিনেমা তো আগাবে না। ভালো সিনেমা বানাতে হবে। এরপর প্রচারণা করলে সিনেমা এমনিতেই দেখতে আসবে মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয়, সিনেমা দেখার পর মুখে মুখে প্রচার না হলেও হয় না।’
‘স্নেহের বন্ধন’ সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয় চৌধুরী ও মৌ খান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কামরুজ্জামান, প্রযোজক শাহ আলম। মুক্তির আগে ছাদখোলা বাসে চড়ে ঢাকা শহরে প্রচারণা চালান ছবির নায়ক-নায়িকা ও প্রযোজক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি নির্দিষ্ট পেজ থেকেও ছবিটির প্রচার চালানো হয়।
লায়ন সিনেমাস ছাড়াও দেশের আরও ১৩টি প্রেক্ষাগৃহে ‘স্নেহের বন্ধন’ মুক্তি পেয়েছে। জানা গেছে, সেসব প্রেক্ষাগৃহেও ছবিটির দর্শক উপস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ‘কাট–পিস’ সিনেমাটিও একইভাবে দর্শকসংকটে রয়েছে।