ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩ হাজার ৪৩০ কর্মী নিয়োগ
বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রমের জন্য দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে এই জনবল নেওয়া হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক · ঢাকা
প্রকাশ:
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ২ হাজার ২৬ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১ হাজার ৪০৪ জনসহ মোট ৩ হাজার ৪৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মূলত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশনকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে প্রকৃত চাহিদার আলোকেই কেবল দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই লোক নেওয়া যাবে না। অনুমোদিত সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো জনবল নেওয়া যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই মাসিক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কর্মীদের মজুরি দিতে হবে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাজেট থেকে, এ জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বাড়তি কোনো অর্থ চাওয়া যাবে না। এছাড়া মজুরির ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
অর্থ বিভাগের ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ’ নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরির হার ৮০০ টাকা, যা মাসে দাঁড়ায় ২৪ হাজার টাকা। নীতিমালার তথ্যমতে, অন্য বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় দৈনিক মজুরি ৭৫০ টাকা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যমান জনবল দিয়ে দৈনন্দিন সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অতীতে দুই সিটিতেই জনবল নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নজির রয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করেন এবং চাকরি স্থায়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এই বিপুলসংখ্যক জনবল কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ সংশোধন করেছে। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
তবে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ চাইলে সরাসরি অথবা অর্থ বিভাগের অনুমোদিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির (আইআইএফসি) মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবে। গত সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থাগুলো চাইলে নিজেরাও সরাসরি এই জনবল নিয়োগ দিতে পারবে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খয়বর রহমান বলেন, “কী প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, তাঁদের পর্যাপ্ত জনবলের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। অনেক আগেই বাড়তি জনবলের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, তবে অনুমোদিত নথিটি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা দ্রুত অপসারণ করতে আরও জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতেও লোকবল বাড়ানো জরুরি।” তিনি পরামর্শ দেন, নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দুই সিটি করপোরেশনের উচিত একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা, যারা প্রভাবমুক্ত থেকে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে।