একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৪ মে, ২০২৬, ৭ ঘন্টা আগে

একনেকে অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এর আগে কয়েক দফা একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন মেলেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, তবে তখন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে Padma River-এর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

একনেক সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা কমবে, মৃতপ্রায় নদীগুলোতে প্রাণ ফিরে আসবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্মিত Farakka Barrage-এর কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ওই ব্যারেজের মাধ্যমে গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা যায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী শুকিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হতে পারে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালগুলোতে লবণাক্ততা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং Sundarbans-এর জীববৈচিত্র্যের ওপর।

— পত্রিকা একাত্তর

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন

youtube
Patrika71.com
news