একেনবাবুর শুটিং স্পট দেখতে কেরালায় কোচি, মুন্নার ও আলাপ্পুঝা
কোচি থেকে মুন্নার সড়কপথে প্রায় ১২৫–১৩০ কিলোমিটার, আর মুন্নার থেকে আলাপ্পুঝা প্রায় ১৭০–১৮০ কিলোমিটার।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবু ওটিটি ও বড় পর্দার সুবাদে বাঙালি দর্শকের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। রহস্যের পাশাপাশি ছবিতে দর্শকের নজর কেড়েছে কেরালার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যও। যাঁরা সিনেমা দেখে একেনবাবুর শুটিং স্পটগুলো ঘুরে আসতে চান, তাঁরা ভ্রমণের তালিকায় রাখতে পারেন কোচি, মুন্নার ও আলাপ্পুঝা।
বিজ্ঞাপন
কেরালা সফরের প্রথম গন্তব্য হতে পারে কোচি। শহরটিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। এই ঐতিহাসিক বন্দর শহরে ফোর্ট কোচি, ডাচ প্যালেস, ইহুদি সিনাগগ ও বিখ্যাত চাইনিজ় ফিশিং নেট দেখা যায়। ইতিহাস ও স্থাপত্যের পাশাপাশি সমুদ্রতীরের পরিবেশও উপভোগের সুযোগ মেলে। হাতে বাড়তি সময় থাকলে আথিরাপল্লি জলপ্রপাতেও যাওয়া যায়। সবুজ অরণ্যের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া চালাকুডি নদীর জলধারাই জায়গাটির প্রধান আকর্ষণ।
কোচি থেকে মুন্নার সড়কপথে প্রায় ১২৫–১৩০ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে চার-পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। পাহাড়ি পথের দুই ধারে চা-বাগান, সবুজ উপত্যকা ও জলপ্রপাতের দৃশ্য যাত্রাকে মনোরম করে তোলে।
মুন্নার ঘুরে দেখতে অন্তত দু’দিন হাতে রাখা ভালো। এখানে মাট্টুপেট্টি জলাধার, ইকো পয়েন্ট, কুন্ডলা হ্রদ ও পোথোমেডু ভিউ পয়েন্ট দেখা যায়। সময় থাকলে এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যানেও যাওয়া যেতে পারে, যেখানে নীলগিরি থারের দেখা মেলে। উদ্যানে প্রবেশের সময় ও টিকিটের নিয়ম আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
মুন্নার থেকে আলাপ্পুঝা সড়কপথে প্রায় ১৭০–১৮০ কিলোমিটার। জলপথ, নারকেল গাছের সারি ও সবুজ ধানখেতের জন্য পরিচিত এই শহরকে অনেকে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ বলেন। সরকারি জলযান বা অনুমোদিত নৌকায় এখানে ব্যাকওয়াটার ঘুরে দেখা যায়। আরও ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য হাউসবোট ভাড়া করা যায়। জলপথে ভেসে ভেসে কেরালার গ্রামীণ জীবন কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। কাছাকাছি সমুদ্রসৈকতেও যাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
কোচি, মুন্নার ও আলাপ্পুঝায় বিভিন্ন বাজেটের হোটেল, রিসর্ট ও হোমস্টে রয়েছে। ছয় থেকে সাত দিনের সফরে তিনটি জায়গাই ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা যায়।
বাংলাদেশ থেকে কেরালা যাওয়ার আগে বিমানপথ, সংযোগকারী ফ্লাইট ও ভাড়ার তথ্য যাচাই করে নেওয়া দরকার। ভারতীয় ভিসা, প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি নিয়ে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নিতে হবে।