উয়েফা ও কনকাকাফের জোরালো দাবি মেনে নিয়ে ফিফার ৬ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সদস্য দেশগুলোকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ফিফার ছয়টি কনফেডারেশনের সভাপতি বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে সদস্য প্রতি ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ডলার দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ফিফা প্রধান।
চলতি মাসের শুরুতে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ইনফান্তিনোকে। ২০২৭-২০৩০ বাণিজ্যিক চক্রে ফিফার ২১১০টি সদস্য দেশের প্রতিটিকে অন্তত ১ কোটি ডলার করে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার দাবি জানান তারা। পরবর্তীতে এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চিঠি পাঠান এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর আগে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম সব প্রস্তাব একত্র করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন তৈরি করবেন। এর আগে ইনফান্তিনোর বাতিল করা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পের প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী চার বছরের চক্রে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলো অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার পাওয়ার কথা ছিল। এমনকি গত সপ্তাহে শেষ হওয়া ৫৩ দিনের সময়সীমার মধ্যে চুক্তিতে সই করলে আরও ২ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ ছিল তাদের।
চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, আমি এখনই কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্কের কথা বলে দিতে চাই না। তবে ফিফার যথাযথ শাসনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, স্বচ্ছ ও হিসাবযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় দায়িত্বশীলভাবে যত বেশি সম্ভব অতিরিক্ত তহবিল ছাড় করা যায়, আমি তাকেই সমর্থন করব। এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখন আর্থিক প্রমাণ, সুশাসন ও সঠিক বাস্তবায়নই এর পক্ষে কথা বলবে।
তিনি আরও যোগ করেন, একটি মাত্র সংখ্যা দিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে বৈশ্বিক কোনো নীতি চূড়ান্ত করা যায় না। তাই আমি সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছি সব প্রস্তাব একত্র করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন তৈরি করতে, যা আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এ ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
চিঠিতে নিজের বিতর্কিত ‘এফএফই’ প্রকল্পের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ফুটবলে ফিফার বিনিয়োগ বাড়ানো। তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি যে বাণিজ্যিক প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলে আরও বেশি বিনিয়োগ করা- এমন নয় যে এটি বিদ্যমান সম্পদ থেকে দায়িত্বশীলভাবে দেওয়া সহযোগিতাকে প্রতিস্থাপন করবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








মন্তব্য