বেলজিয়ামের কাছে কষ্টের হারের হতাশা ভুলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে তুরস্ককে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আজ্জুরিরা। বুরসার মাঠে এই জয়ে উজ্জ্বল ছিল তরুণদের ঝলক, যার নেতৃত্ব দেন মাইকেল কায়োদে ও পিও এসপোসিতো।
টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কোচ রবার্তো মানচিনি শুরুর একাদশে আটটি পরিবর্তন এনে বড় এক রদবদল করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মাইকেল কায়োদে, মাতেও রুগেরি এবং সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতোর জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক। বিশেষ করে সেবাস্তিয়ানো ও তার ভাই ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো একসঙ্গে মাঠে নেমে ১৯১৫ সালের পর এই প্রথম দুই ভাই একসঙ্গে আজ্জুরিদের জার্সিতে খেলার ইতিহাস গড়লেন।
অন্যদিকে, ভিনসেন্দো মন্টেলার দল তুরস্কও বেশ কয়েকজন মূল খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামে। সাসপেনশনের কারণে গোলরক্ষক উগুরকান চাকির এবং ইনজুরির কারণে হাকান কালহানোগ্লু, কেনান ইদিরিজ ও মের্ট মুলদুর ছিলেন বাইরে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইতালি। ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতোর একটি শট গোলরক্ষক কোনোমতে প্রতিহত করলেও কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় তুর্কি ডিফেন্ডাররা। সুযোগ বুঝে ১২ গজ দূর থেকে দারুণ শটে দলকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে লাল কার্ড পাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ, যার মাধ্যমে দারুণ এক প্রত্যাবর্তন ঘটালেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পরেই চমৎকার এক দলীয় বোঝাপড়ায় ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইতালি। দাভিদে ফ্রাত্তেসি, পিও এসপোসিতো ও জিয়াকোমো রাসপাদোরির নিখুঁত পাসিংয়ের পর মাইকেল কায়োদের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বল জালে জড়াতে ভুল করেননি ফ্রাত্তেসি। এরপর আরও একটি দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে আসে দলের তৃতীয় গোল। পিও এসপোসিতোর বাড়ানো পাস থেকে ডানদিক দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের অভিষেক রাঙিয়ে তোলেন কায়োদে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রথমার্ধের প্রথম ৩০ মিনিটেই তিন গোল করার কৃতিত্ব দেখাল ইতালি।
বিরতির ঠিক পরেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় তুরস্ক। তিন পরিবর্তনের সুফলও হাতেনাতে পায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় ওগুজ আইদিনের ক্রসে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান বারিস আলপার ইলমাজ।
তবে স্বাগতিকদের স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইতালি। বদলি খেলোয়াড় নিকোলো কামবিয়াঘি মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে স্যান্ড্রো টোনাদিকে বাড়িয়ে দেন। টোনাদির দুর্দান্ত কার্লিং শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফাঁকা পোস্টে বল জালে ঠেলে নিজের গোল পূর্ণ করেন ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোসিতো।
এরপর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তুর্কি ফরোয়ার্ড ইলমাজ বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হওয়ার দাবি জানালেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি, বরং উল্টো ভান করার দায়ে তাকে হলুদ কার্ড দেখান। আর্দা গুলারের বাড়ানো বলে ইলমাজ আবারও বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আজ্জুরিরা।








মন্তব্য