ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দেশটিতে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প এর আগে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া নতুন নৌবহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী বহর এবং ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। দুটি জাহাজসহ এ বহরে সাত হাজারের বেশি নাবিক ও দুই হাজারের বেশি মেরিন সদস্য রয়েছেন।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে একই সময়ে তিনটি বিমানবাহী রণতরী থাকতে পারে। সংবেদনশীল সামরিক কার্যক্রম নিয়ে কথা বলায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ তথ্য জানান।
এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কয়েক শ সামরিক বিমানও এ অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে তিনটি বিমানবাহী রণতরী বহর মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে এ অঞ্চলে রয়েছে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী এবং ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ।
সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত করতে। দীর্ঘ ওই মোতায়েনে আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা টানা ২৬০ দিনের বেশি সমুদ্রে ছিলেন। থিওডোর রুজভেল্ট বহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর জর্জ ওয়াশিংটনকে আবার জাপানের আশপাশের সমুদ্রসীমায় পাঠানো হতে পারে।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বিমান হামলার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা আরও বাড়ানো ‘সম্ভব’।
তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কৌশল জানাতে অস্বীকৃতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এক বছর আগে যেসব শর্ত তিনি মেনে নিতেন না, এখনো সেসব শর্ত গ্রহণ করার অবস্থানে নেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








মন্তব্য