পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান বুলগেরিয়ার

পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান বুলগেরিয়ার

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ। ইউরোনিউজের ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস সামিটে তিনি বলেন, ইউরোপকে যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ সম্ভাব্য পরিণতি মাথায় রেখে কূটনীতিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।…

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি এড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ। ইউরোনিউজের ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস সামিটে তিনি বলেন, ইউরোপকে যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ সম্ভাব্য পরিণতি মাথায় রেখে কূটনীতিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বুধবার ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে রুমেন রাদেভের শঙ্কার বিষয়টি উঠে আসে। 

রাদেভ বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে ইউরোপের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা জোরদার করা।

তিনি বলেন, ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের মাধ্যমে শক্তির ভিত্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তার একটি সীমা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত শান্তির কাঠামো অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে নয়, কূটনীতির মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

রাদেভের ভাষায়, ‘শুধু অস্ত্র সরবরাহ ও সমর্থন দেওয়ার একটি সীমা আছে। শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে কূটনীতির মাধ্যমে। তাই আমাদের আরও বেশি পরস্পরের কথা শুনতে হবে এবং যোগাযোগের পথ খুলতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউরোপ কি পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা করছে? রাদেভ বলেন, ‘আমাদের সবসময় সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা ভাবতে হবে। আমরা কি এর জন্য প্রস্তুত? ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে কি কেউ কথা বলছে? কারণ আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধে জয় পাওয়ার চেষ্টা করছি।’

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন রাদেভ। লাভরভ বলেছিলেন, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খুবই স্বল্পস্থায়ী। ওই মন্তব্যকে অনেকে পরোক্ষ পারমাণবিক হুমকি হিসেবে দেখেছেন।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে মস্কো ন্যাটোকে পাঠানো এক নথিতে জানিয়েছে, জোটের বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় তারা প্রয়োজন হলে ‘পারমাণবিক অস্ত্রসহ’ নিজেদের হাতে থাকা সব শক্তি ও সক্ষমতা ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে।

ক্রেমলিনের এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করলেও রাদেভ ইউরোপীয় নেতাদের সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনার আহ্বান জানান। তার মতে, রাশিয়া দুর্বল বা কোণঠাসা হয়ে পড়লে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারি না। আমাদের মহাদেশে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং রাশিয়ার অস্ত্রভান্ডারেও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এটিও কৌশলগত হিসাবের একটি অংশ’।

রাশিয়ার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। আনুমানিক ৪ হাজার ৪০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মজুত রয়েছে দেশটির, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭৯৬টি কৌশলগতভাবে মোতায়েন রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার পক্ষে অবস্থান নিলেও রাদেভ বরাবরই রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পক্ষে কথা বলে আসছেন। স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়াও বিভিন্ন সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

তবে ইউরোপের অন্য অংশের নেতাদের যুক্তি, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় ক্রেমলিনের আগ্রহ সীমিত এবং রাশিয়া এখনও সর্বোচ্চ মাত্রার দাবিতে অনড় রয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে লাভরভের সংক্ষিপ্ত বৈঠকও তিক্ত বাকবিতণ্ডার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

রাদেভ অবশ্য কূটনীতির ওপর জোর দেওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তিনি বলেন, ইউরোপকে তার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে এবং কূটনীতিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

নিজের সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা ‘রাশিয়াপন্থী’ তকমাও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। রাদেভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপের কৌশলগত চিন্তা ও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কূটনীতির শক্তিকে এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করিনি। আমাদের আরও বেশি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আরও বেশি কথা বলতে হবে।’

সূত্র: ইউরো নিউজ

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন