টিভিতে দেখা অভিজ্ঞতায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করছিলেন প্লাম্বার

টিভিতে দেখা অভিজ্ঞতায় বিমান নিয়ন্ত্রণ করছিলেন প্লাম্বার

তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের পর হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন একদল যাত্রী। পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণও সাময়িকভাবে নেন তাদের একজন, পেশায় যিনি প্লাম্বার। টেলিভিশন দেখে বিমান নিয়ন্ত্রণের যে জ্ঞান তিনি অর্জন করেছিলেন সেটিই কাজে লাগান তিনি।…

তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাতের পর হামলাকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন একদল যাত্রী। পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণও সাময়িকভাবে নেন তাদের একজন, পেশায় যিনি প্লাম্বার। টেলিভিশন দেখে বিমান নিয়ন্ত্রণের যে জ্ঞান তিনি অর্জন করেছিলেন সেটিই কাজে লাগান তিনি।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন ওই যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন। তিনি জানান, বিমানে হামলা হয়েছে বুঝতে পারেন এক নারীর চিৎকার শুনে। ওই নারী ‘ছুরিকাঘাত’ বলে চিৎকার করছিলেন। একই সময়ে বিমানটিও প্রবলভাবে কেঁপে ওঠে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট ১০৭৩-এর ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন সহকারী পাইলট। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে তাকে কাবু করার চেষ্টা করেন।

ইসরায়েলি তদন্তকারীদের দাবি, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিমানটিকে নিচের দিকে নামিয়ে দিয়ে সেটি বিধ্বস্ত করে সবাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে পেছন থেকে শক্ত করে ধরে ককপিট থেকে সরিয়ে আনেন। এরপর দ্রুত বিমানের নিয়ন্ত্রণের কাছে গিয়ে সেটিকে সামলানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠান দেখে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সামলাতে হয়, সে সম্পর্কে তার কিছুটা ধারণা হয়েছিল। ককপিটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দুটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানোর মতো অবস্থায় থাকলেও সেখানে কোনো পাইলট নেই।

হায়ুনের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের দিকে টেনে সেটিকে কিছুটা সোজা করার চেষ্টা করেন। পরে তৃতীয় পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

পরে তৃতীয় পাইলট বিমানটিকে সৌদি আরবে নিয়ে যান। সেখানে নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে আসেন। আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পরে ইসরায়েলে ফিরে আসা হায়ুন ও অন্য যাত্রীদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় হায়ুনের পরনে থাকা শার্টে ঘটনার সময়ের রক্তের দাগও দেখা যায়। নেতানিয়াহু তার সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।

সূত্র: এবিসি নিউজ

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন