ঘরের মাঠে জিদানের ফ্রান্সকে রুখে দিল ইতালি

ঘরের মাঠে জিদানের ফ্রান্সকে রুখে দিল ইতালি

মাইকেল ওলিসের দূরপাল্লার রকেট গতির শটে প্যারিসজুড়ে যখন জয়ের আবহ, তখনই বাঁধ সাধলেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। আলো ছড়ানো জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সকে তাদেরই ঘরের মাঠে ১-১ গোলে আটকে দিয়ে এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে নতুন উদ্দীপনায় ঘুরে দাঁড়ানো ইতালি। স্টাদিও দে ফ্রান্সে উয়েফা…

মাইকেল ওলিসের দূরপাল্লার রকেট গতির শটে প্যারিসজুড়ে যখন জয়ের আবহ, তখনই বাঁধ সাধলেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। আলো ছড়ানো জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সকে তাদেরই ঘরের মাঠে ১-১ গোলে আটকে দিয়ে এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে নতুন উদ্দীপনায় ঘুরে দাঁড়ানো ইতালি। স্টাদিও দে ফ্রান্সে উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ১০ জনের ফ্রান্সকে রুখে দেয় আজ্জুরিরা।

এদিন ইনজুরির কারণে আক্রমণভাগের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে হয়েছিল ফরাসি কোচ জিদানকে। তবুও ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্বাগতিকরা। তবে প্রথম অর্ধের খেলা বেশ কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নেয়। দুই দলের সামনেই সুযোগ এসেছিল এগিয়ে যাওয়ার। দশম মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের মাইকেল কায়োদের নিচু ক্রস থেকে মোইসে কিনের শট ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁ অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন।

অন্যদিকে, উসমান দেম্বেলে ও দেজিরে দুয়ের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে ইতালিকে কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হয়। বিরতির ঠিক আগে কিন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে অবশেষে ডেডলক ভাঙেন মাইকেল ওলিস। রায়ান চেরকির ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে বক্সের প্রাঙ্গণ থেকে ডানপায়ের এক বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা।

তবে পিছিয়ে পড়েও খেই হারায়নি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। গোল খাওয়ার ঠিক ১৩ মিনিট পর (৬৮তম মিনিটে) দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরে তারা। জাতীয় দলের হয়ে অভিষিক্ত আন্তোনিও ভেগারার বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথার দারুণ ফিনিশিংয়ে ইতালিকে উল্লাসে ভাসান ইন্টার মিলান ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় ফ্রান্স। কিন্তু গোলপোস্টের নিচে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইতালি অধিনায়ক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও আদ্রিয়ান রাবিওর বিপজ্জনক সব শট দুর্দান্ত দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই শট-স্টপার।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফরাসিরা। ইতালীয় স্ট্রাইকার কিনের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তাকে ফাউল করার অপরাধে দ্রুত দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফরাসি সেন্টার-ব্যাক দায়ো উপামেকানো।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে গোলের চেষ্টা চালিয়েছিল স্বাগতিকরা। যোগ করা সময়ে বক্সের ভেতর ওলিসের এক বিপজ্জনক দৌড় বাস্তোনির সঠিক সময়ে করা স্লাইডিং ট্যাকলে ভেস্তে যায়। ফরাসি খেলোয়াড়রা পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারির সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

মন্তব্য

0 মন্তব্য

আরও পড়ুন