নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ জনের মৃত্যু
নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তা ও সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
নাটোর জেলা প্রতিনিধি · বড়াইগ্রাম, নাটোর
প্রকাশ:
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক ও এক শিশুসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন যাত্রী।
বিজ্ঞাপন
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন জানান, নাটোর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পেয়েই তাদের দল স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীর সোহেল রানা (৪০) ও আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালীর শহীদুল ইসলাম (৪৫) ও তার মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জুয়েল (৪০), সোহাগ শিকদার (৩০), আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৬), আব্দুস সামাদ ফকির (৭০) ও শাহীন আহমেদ (৩২)। এছাড়াও ঝিনাইদহের ট্রাকচালক আবু কালাম (৫৫), নওগাঁর রাসেল (৩৩) এবং ফরিদপুরের হিমেশ জমাদার (৩৫) নিহত হয়েছেন।
ঘটনার পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি নিহতের স্বজনদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক, ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও বনপাড়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেনসহ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, সরু সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে ৩৮ জন নিহতের ঘটনার ১২ বছর পর একই দিনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল।