কুষ্টিয়ায় পদ্মায় দুই বাহিনীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা গোলাগুলি
ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযানের মধ্যেই পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়াল কাকন ও কালু বাহিনী
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি · কুষ্টিয়া
প্রকাশ:
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা–সংলগ্ন পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। ওই সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উদ্যোগে মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে একটি অভিযান চলছিল, যেখানে নৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকার বাসিন্দারা বেলা দুইটার দিকে নদীর ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। একপর্যায়ে গুলির তীব্রতা বাড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নদীতে কয়েকটি স্পিডবোটকে দ্রুত চলাচল করতে দেখা যায়। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার জানান, তিনি নৌকায় ওঠার পরপরই গুলির শব্দ শুনতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেন।
মনিরা আক্তার বলেন, ‘নৌকায় উঠতেই গুলির একাধিক শব্দ শুনতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। এরপর নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
একটি স্পিডবোট দেখেছি। পাড়ে থাকা আমার গাড়ির চালক তিন থেকে চারটি স্পিডবোট দ্রুত যেতে দেখেছেন। অভিযানে পদ্মা নদীতে এ সময় মাছ ধরার কোনো নৌকা চোখে পড়েনি।’
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কুষ্টিয়া অংশে পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনায় কাকন বাহিনীর সদস্যরা এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের কলাবাগানে কালু বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। আগে এই মোহনা কালু বাহিনীর দখলে থাকলেও এবার কাকন বাহিনী তা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান। নয়ন নামের এক মাঝির ভাষ্য, কাকন বাহিনীর লোকজন একটি ট্রলারে এসে গোলাগুলি শুরু করে এবং বিকেল চারটার দিকে তাদের বহরে আরও দুটি নৌকা যুক্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল এবং সন্ধ্যায় গুলির শব্দ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, এলাকাটি দুর্গম এবং তাদের জনবল কম থাকায় বড় পরিসরে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি দুর্গম। তাঁদের জনবলও খুব কম। লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে মাত্র ১১ জন সদস্য আছেন। তাঁদের মধ্যে ৪ জন মৎস্য অভিযানে ছিলেন। খুব শিগগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।’