কুষ্ঠিয়া জেলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন
প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহার না করার দাবি তুলে ধরেছেন
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি · কুষ্টিয়া
প্রকাশ:
আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে, কুষ্টিয়া‑ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি শেষে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও পেশ করে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীরা জিলা স্কুলের ঐতিহ্য রক্ষা এবং মাঠকে ভবিষ্যতে কোনো দলীয় রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য ব্যবহার না করার দাবি জানায়।
বেলা সাড়ে তিনটায় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে মাঠে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনকে জানাতে এসেছেন, বলে মিডিয়াকে জানান।
আগামী শনিবার ১১ দলের ব্যানারে ঢাকা থেকে লংমার্চ বের হবে; গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও শেষমেশ কুষ্টিয়ায় সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান ফটকের দু'পাশেরও বিলবোর্ড রয়েছে। সম্প্রতি দলীয় শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাবেশের প্রস্তুতি ঘোষণা করেন এবং বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সমাপনী সমাবেশের প্রচার চালিয়ে যান।
আজ মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন; তাদের হাতে প্ল্যাকার্ড ছিল এবং তারা মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ না করার দাবি তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলকে এমন সুযোগ না দেওয়ার কথাও তারা জোর দিয়ে বলেছে।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থী মজিবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে দাঁড়াইনি। জিলা স্কুলের মাঠে আগে কখনো কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়নি। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা দাঁড়িয়েছি। ভবিষতেও যেন কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কোনো আয়োজন না করে, সে ব্যাপারে আমরা সোচ্চার থাকব।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৩ অক্টোবর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠের বরাদ্দ দাবি করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনপত্রে লংমার্চের জন্য স্টেডিয়ামে পূর্বপ্রস্তুতি সহ নির্ধারিত দিনে ব্যবহার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এবং ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলমের মাধ্যমে পুলিশ সুপারকে আবেদনটি পাঠানো হয়; সেখানে অনুমতি দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবে কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন‑হাসান বলেছেন, “কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠ খুবই ছোট। তা ছাড়া সেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে। সার্বিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।” তিনি যোগ করেন, “জেলা জামায়াতের আবেদনের বিষয়ে এখনও কোনো অনুমতি মৌখিক বা লিখিতভাবে জানানো হয়নি।”
বিজ্ঞাপন
এনামুল হক ১৮ অক্টোবরও জেলা প্রশাসকের কাছে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশের জন্য মাঠ বরাদ্দের আবেদন করেন।
বিকেল সাড়ে চারটায় জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন‑হাসান প্রথম আলোকে জানান, “শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের মাঠের বরাদ্দ চাওয়া আবেদনটি পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন পাইনি; প্রতিবেদন পাওয়ার সাপেক্ষে আজ রাতের মধ্যে বিষয়টি জানাব।” তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠ খুবই ছোট, সেখানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলছে; তাই সিদ্ধান্ত দ্রুত জানাব।”
সাত দফা দাবিতে ৩১ অক্টোবর খুলনা বিভাগে ১১‑দলীয় ঐক্যের লংমার্চমোবারক হোসাইন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, জিলা স্কুলে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। মৌখিক অনুমতিতেই প্রস্তুতি চলছে এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়ে বলেছেন যে ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চ সমাপনী সমাবেশ হবে।
সেই সময়ে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মহসিনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মোবারক হোসাইন। পরে মোবারক হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, রংপুরে জিলা স্কুল মাঠের দেয়াল ভেঙে সেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; সমাবেশের পর দেয়াল পুনরায় তৈরি করা হয় এবং সেখানে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। তিনি জিলা স্কুলে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন এবং মৌখিক অনুমতিতে প্রস্তুতি চলছে, জেলাপ্রশাসকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।