শ্যালিকাকে বিয়ে ভুল হয়েছে, এক স্ত্রীকে তালাকের ঘোষণা যুবকের
দুই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি · মহাদেবপুর, নওগাঁ
প্রকাশ:
প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করা ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছেন নওগাঁর আলোচিত সেই যুবক (৩৫)। প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করায় গত সোমবার রাতে ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং মারধর করে এলাকাছাড়া করা হয়েছিল। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওই যুবক।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ করেন ওই যুবক। তিনি দাবি করেন, আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিষয়ে ইসলামের বিধান সম্পর্কে তিনি জানতেন না। অজ্ঞতার কারণে এমন ভুল হয়েছে জানিয়ে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এখন থেকে সমাজ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জীবন পরিচালনা করবেন বলে জানান তিনি।
ওই যুবক নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় নওগাঁর আদালতের এক আইনজীবীর সহকারী। প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে তিনি জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর সমালোচনা শুরু হলে যুবক দাবি করেছিলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তিনি এই বিয়েটি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আপন দুই বোনকে বিয়ের বিষয়টি জানাজানির পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। ইসলাম ধর্মে ‘একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই’ উল্লেখ করে বদলগাছীতে তাঁদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজনের ক্ষোভের মুখে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার রাতে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন ওই যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুই স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। এ বিয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁদের গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলা এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে রেখেছেন অনেক মানুষ। যুবককে একজন ধরে রেখেছেন এবং অন্য এক নারী তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দিচ্ছেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতে এবং গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে যুবককে মারধর করতে দেখা যায়।
ফেসবুক লাইভে ওই যুবক জানান, তিনি দুই স্ত্রীর মধ্যে একজনকে তালাক দেবেন। তবে কোন স্ত্রীকে তালাক দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং বুধবার বিকেল পাঁচটায় ফেসবুক লাইভে এসে তা সবাইকে জানাবেন।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, সব ঘটনা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।