চুয়াডাঙ্গায় ব্যানারে জিয়ার ছবি না থাকায় বিএনপির বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জন
বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি · চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানের ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা‑কর্মীরা বিক্ষোভ করেন এবং অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা আজ শনিবার দুপুরে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে তারা কার্যালয়ের পশ্চিম পাশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ব্যানার বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চায়।
বিজ্ঞাপন
ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকলে, জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, ‘যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ব্যানারে ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আমাদের সব সময় নির্দেশনা দেন, এ জন্য আমরা ছবির বিষয়টি এড়িয়ে গেছি। তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি থাকলে ভালো হতো।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিষয়টি আরও ভালো করে লক্ষ করা দরকার ছিল।’
ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা সত্ত্বেও, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলে উল্লেখ করে হট্টগোলজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা শহর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়। এরপর ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার, সিভিল সার্জন হাদি মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দিন।
শিক্ষা সংস্থার ফেসবুক পোস্টে শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ দাবি করার পর, দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা‑কর্মীরা অনুষ্ঠানে হাজির হন এবং ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার কারণ জানতে চায়। তারা ‘মুজিববাদী আমলারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগের চামচারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘কে বলে রে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ করেন।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সারা দেশে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে, তবে আমাদের মহানায়কের ছবি ব্যানারে না থাকা তীব্র নিন্দার যোগ্য’। তিনি জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ ও প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে না, কোনো এজেন্ডা থাকলে কঠোর দমন করা হবে।’
জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) জেলার সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মহানায়কের ছবি ব্যানারে না থাকায় আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করছি’। সমাবেশে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ, জেলা ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মালি এবং অন্যান্য দলীয় নেতা‑কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।