বিশ্বের শীর্ষমূল্যের মোটরসাইকেলের দাম ৫ কোটি টাকা, এর ভিতরে কী কী
মিডুয়াল টাইপ ১ সিরিজ ৩ এর দাম প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, মাত্র পাঁচটি তৈরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
মোটরসাইকেল বাজারেও বিলাসবহুল গাড়ির মতো দামি ও বিশেষ মডেল রয়েছে। দাম নির্ধারণে ইঞ্জিনের ক্ষমতা, গতি ছাড়াও ব্যবহারকৃত উপকরণ, প্রযুক্তি, নকশা ও উৎপাদনের সংখ্যা প্রভাব ফেলে। নতুন মডেলের দাম কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৪ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
ব্রিটিশ মোটরসাইকেল সাময়িকী ভিসরডাউনের এক প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি দামি মোটরসাইকেলের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় সর্বোচ্চ দামের সোপানে আছে ফরাসি কোম্পানি মিডুয়াল টাইপ ১ সিরিজ ৩, যার দাম প্রায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ ডলার, বর্তমান বাজারে (প্রতি ডলারের দাম ১২৫ টাকা ধরে) প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি টাকা। এই মডেল মাত্র পাঁচটি তৈরি করা হয়েছে, ১ হাজার ৩৬ সিসির ইঞ্জিন থেকে ১০০ অশ্বশক্তি উৎপন্ন করে এবং হাতে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম কাঠামো ও বিশেষ নকশার জন্য উচ্চমূল্য পেয়েছে।
দামের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে ডুকাটি সুপারলেগেরা ভি৪ সেন্টেনারিও, যা ডুকাটির শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২৬ সালে তৈরি করা হয়েছে। আনসারের প্রতিবেদন অনুযায়ী এর দাম প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮০০ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পৌণে তিন কোটি টাকা। এই বিশেষ সংস্করণ মাত্র ১০০টি উৎপাদিত হয়েছে এবং ১১০৩ সিসির ইঞ্জিন থেকে ২২৮ অশ্বশক্তি প্রদান করে। ডুকাটির তথ্য অনুযায়ী এতে কার্বন ফাইবারের ফ্রেম, সুইংআর্ম ও বডিওয়ার্ক, পাশাপাশি কার্বন সিরামিক ব্রেক ডিস্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে এমভি আগুস্তা সুপারভেলোসে ১০০০ সিরি অরো, যার দাম প্রায় ৮২ হাজার ৫০০ ডলার। এই মডেলের ৯৯৮ সিসির ইঞ্জিন থেকে ২০৮ অশ্বশক্তি পাওয়া যায় এবং কার্বন ফাইবারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিশেষ নকশা ও উন্নত প্রযুক্তি এটিকে দামি সুপারবাইকের তালিকায় স্থান দেয়।
ব্রিটিশ ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড ব্রাফ সুপিরিয়রের এসএস১০০ এর দাম প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ ডলার। ৯৯৭ সিসির ভি-টুইন ইঞ্জিন থেকে ১০২ অশ্বশক্তি উৎপন্ন করে এবং পুরনো ব্রিটিশ মোটরসাইকেলের ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নকশা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কাওয়াসাকি নিনজা এইচ২আর এর দাম প্রায় ৬৯ হাজার ৮০০ ডলার। ৯৯৮ সিসির সুপারচার্জড ইঞ্জিন থেকে ৩২৫ অশ্বশক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম হলেও এটি সাধারণ সড়কের জন্য অনুমোদিত নয়; মূলত রেসিং ট্র্যাকের জন্য তৈরি। ভিসরডাউনের তালিকায় হার্লি-ডেভিডসনের সিভিও স্ট্রিট গ্লাইড লিমিটেডের মতো বিলাসবহুল মোটরসাইকেলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মোটরসাইকেল বাজার সংস্থা সাইকেল ট্রেডারের ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির প্রতিবেদনেও দামি মোটরসাইকেলের তালিকা রয়েছে। এতে ডুকাটি সুপারলেগেরা ভি৪-এর দাম ১ লাখ ডলারের বেশি বলা হয়েছে, কার্বন ফাইবারের ফ্রেম, সুইংআর্ম, চাকা ও উন্নত রেসিং প্রযুক্তির কারণে এই মডেল সাধারণ সুপারবাইকের তুলনায় ব্যয়বহুল।
নিলামে পুরোনো মোটরসাইকেলের দাম ১৩ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মেকাম অকশনে ১৯১৫ সালের সাইক্লোন ভি-টুইন মোটরসাইকেলটি ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়, যা বোর্ড ট্র্যাক রেসিংয়ের জন্য তৈরি হয়েছিল। নিউ অ্যাটলাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রকাশ্য নিলামে মোটরসাইকেল বিক্রির রেকর্ড স্থাপন করেছে।
এরপরের অবস্থানে আছে ১৯৬৫ সালে তৈরি এমভি আগুস্তা ৫০০ গ্র্যান্ড প্রিক্স, যা ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল যুক্তরাজ্যের বনহামস নিলামে প্রায় ১২ লাখ ৯৯ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। এই মোটরসাইকেল একসময় বিখ্যাত রেসার মাইক হেইলউড ও জিয়াকোমো আগোস্তিনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং জন সার্টিসের মালিকানাতেও ছিল। বনহামসের নিলামসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ক্রেতার প্রিমিয়ামসহ এই দাম নির্ধারিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অর্থাৎ নতুন মোটরসাইকেলের দাম যেখানে প্রায় ৪ লাখ ডলার, সেখানে ঐতিহাসিক ও দুর্লভ মোটরসাইকেল নিলামে প্রায় ১৩ লাখ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই দুই ধরনের বাজারের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তি আলাদা; নতুন মডেল উচ্চ প্রযুক্তি ও সীমিত উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে, আর পুরোনো মডেল ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংগ্রাহকদের আগ্রহের ওপর নির্ভর করে।
মোটরসাইকেলের দাম বেশি হওয়ার মূল কারণ হল উন্নত প্রযুক্তি ও সীমিত উৎপাদন। কার্বন ফাইবার, টাইটেনিয়াম, বিশেষ ইঞ্জিন, রেসিং প্রযুক্তি ও হাতে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, এবং সীমিত সংখ্যার কারণে ক্রেতাদের জন্য সরবরাহ কম থাকে। পুরোনো মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সংগ্রাহকদের আগ্রহই নিলামমূল্য বাড়িয়ে দেয়।