দিনাজপুর বোর্ডে অর্ধেকের বেশি ফেল, ৪৯টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি
পাঁচ বছরের মধ্যে পাসের হার সর্বনিম্নে নেমে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি · দিনাজপুর
প্রকাশ:
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক শনিবার সকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে এইবারের এইচএসসি ফলাফলে বোর্ডের ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। এ সময় বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বোরহান উদ্দিন, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জহুরুল ইসলাম প্রামাণিক, জহিরুল ইসলাম, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মওদুদুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুর বোর্ডের সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৬৬৮টি কলেজ থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন; তাদের মধ্যে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন পাস করেছেন, অর্থাৎ ৫৪ ভাগের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৭৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে পাসের হার নেমে ৫৭ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২১ সালে ১৫ হাজার ৩৪৯, ২০২২ সালে ১১ হাজার ৮৩০, ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৪৫৯, ২০২৪ সালে ১৪ হাজার ২৯৫ এবং ২০২৫ সালে ৬ হাজার ২৬০ থেকে কমে ২ হাজার ৯৫৩ হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল দেখায় মানবিক বিভাগে ২৬ হাজার ৩০৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৬৩ পাস, পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ; বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮ হাজার ৩৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ২৮৬ পাস, পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ; ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭ হাজার ১৩৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৪৯ পাস, পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে ২ হাজার ৯৪ জন, মানবিক বিভাগে ৭৯২ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৭ জন শিক্ষার্থী সেরা।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় মোট ৫৩ হাজার ৫০৮ ছেলের মধ্যে ২২ হাজার ১০৬ পাস করেছেন (পাসের হার ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ), আর ৬০ হাজার ২৮ মেয়ের মধ্যে ২৯ হাজার ২৯২ পাস করেছেন (পাসের হার ৫০ দশমিক ২৬ শতাংশ)। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৫৭০ মেয়ে এবং ১ হাজার ৩৮৩ ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে আট জেলার মধ্যে রংপুর জেলার পাসের হার শীর্ষে ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ, পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্য জেলাগুলোর পাসের হার নীলফামারীতে ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, লালমনিরহাটে ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, কুড়িগ্রামে ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং গাইবান্ধায় ৩৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে রংপুরে শীর্ষে ১ হাজার ২৭৬ জন, পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন ৫১ জন, নীলফামারীতে ৫৬১ জন, দিনাজপুরে ৪৭৬ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭৮ জন, গাইবান্ধায় ১৭৩ জন, কুড়িগ্রামে ১৩৬ জন এবং লালমনিরহাটে ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
এইবার দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার ৬৬৮টি কলেজের মধ্যে ৪৯টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি; রংপুরে ৩টি, দিনাজপুরে ৬টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯টি, নীলফামারীতে ১২টি, গাইবান্ধায় ২টি, লালমনিরহাটে ৬টি, কুড়িগ্রামে ৯টি এবং পঞ্চগড়ে ২টি কলেজ। অতীত পাঁচ বছরে কেউ পাস না করা কলেজের সংখ্যা বাড়তে থাকে; ২০২১ সালে ২টি, ২০২২ সালে ১৩টি, ২০২৩ সালে ১৬টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ৪৩টি কলেজে কোনো পাস হয়নি, এবং এই বছর তা বেড়ে ৪৯টি হয়েছে।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক নূর আবদুর রাজ্জাক বলেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাসকে তারা শিক্ষার মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এমন কলেজের সংখ্যা কমানোর জন্য আলোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন নোটিশের বদলে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের ডেকে সরাসরি ফলাফল খারাপের কারণ জানানো হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হতে পারে।