নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে রায় আজ
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে এই নির্বাচনের ফলাফলে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ, বাস্তুচ্যুতি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের নির্বাচিত করতে ভোট দিচ্ছেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলকে অন্তত ৬১টি আসন পেতে হবে। ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন না, বরং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয় এবং নেসেটে প্রবেশের জন্য প্রতিটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর দল লিকুদকে নিয়ে ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সরকারের শরিকদের মধ্যে রয়েছে ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার, বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম, শাস এবং ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস। বিরোধী শিবির জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট অথবা ইয়ার লাপিদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত শুক্রবারের জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জরিপমতে নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও অধিকাংশ বিরোধী নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। সমঝোতা না হলে পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি এখন পর্যন্ত ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এটি তাঁর সপ্তম মেয়াদে সরকার গঠনের প্রচেষ্টা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। নিরাপত্তাব্যর্থতার দায় ও স্বাধীন তদন্তের দাবি এবারের ভোটের অন্যতম প্রধান বিষয়। নেতানিয়াহু এই দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধীরা জবাবদিহি দাবি করছেন। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি এবং রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘নেতানিয়াহুর হারলেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তারপরও আমি নেতানিয়াহুর পরাজয় চাই।’