বিএনপি এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনসহ নানা অভিযোগ
পুঠিয়া উপজেলায় ১১ অক্টোবর সাইবার আইনে চারজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি · পুঠিয়া, রাজশাহী
প্রকাশ:
আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী নগরের অলকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘রাজশাহী-৫ আসনের ভুক্তভোগী বিএনপির নেতাকর্মী’ ব্যানারের অধীনে দলীয় নেতা-কর্মীরা অভিযোগ উত্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার সরকার আল‑আমীন, বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী ও সাবেক ছাত্রনেতা আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন। তারা পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলামের প্রত্যাহার ও এমপি’র নির্দেশে ‘মিথ্যা’ মামলা রেকর্ডের দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
সম্মেলনে বলা হয়, এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল দলের নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, সারের ডিলার নিয়োগ এবং আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি পুঠিয়া-দুর্গাপুরের বেশির ভাগ সরকারি পুকুরকে আওয়ামী লীগ এক অর্থদাতার হাতে চাষ করাচ্ছেন এবং টাকার বিনিময়ে ‘ফ্যাসিবাদ ও রাজাকার ঘরানার লোকদের’ ডিলারশিপ প্রদান করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এমপি নজরুল ইসলাম মণ্ডল সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনে দেখা করতে নিয়ে গেছেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব সেনগুপ্ত ও কর্মী মাজহারুল ইসলাম মিন্টু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে শফিউল ইসলামকে ডিলারশিপ প্রদান করেছেন।
অভিযোগ করা হয়, এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে এমপি মণ্ডল তাঁর পরিবারের সদস্য, ফ্যাসিবাদের দোসর কিংবা জামায়াতের কাউকে সভাপতি ও সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন। সরকারি ও দলীয় অনুদান, ঈদের বিশেষ বরাদ্দ এবং উন্নয়ন কাজের থোকবরাদ্দের ব্যয় স্বচ্ছ নয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদল ও যুবদলের চারজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেলোয়ার সরকার আল‑আমীন জানান, গত ১৩ আগস্ট বিড়ালদহ পশ্চিমপাড়া গ্রামে একটি পারিবারিক ঘটনার ভিত্তিতে তিনি ও নয়জন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, যদিও তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, ১১ অক্টোবর দলের চারজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে এবং এসব মামলার পেছনে এমপি’র চাপ রয়েছে, পুঠিয়া থানার ওসি সহযোগিতা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
বানেশ্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি নুরুল ইসলাম নবী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে পুঠিয়া-দুর্গাপুরে নজরুল ইসলাম মণ্ডল ছাড়া আরও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, যাঁরা মণ্ডলের পক্ষে না হওয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
আজ বিকেলে এমপি নজরুল ইসলাম মণ্ডল মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলে জানান, যাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁরা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোট করেননি, দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং তখন থেকে তাঁর বিরুদ্ধেই মিছিল-মিটিং চালিয়ে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ দুই নেতার সাক্ষাৎ করানোর বিষয়ে মণ্ডল ব্যাখ্যা করেন, তাঁরা শিক্ষক হিসেবে গেছেন, কোনো দলীয় পরিচয়ে যাননি। সারের ডিলার নিয়োগের সমালোচনা নিয়ে ফেসবুকে পোস্টের ভিত্তিতে মামলা করা সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে মামলা করেননি এবং ওসির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি।