প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবিতে মন্তব্য করা যুবক রিমান্ডে
মামলায় গ্রেপ্তারের আগে তার বাবাকেও আটক করা হয়
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি · রাজশাহী
প্রকাশ:
২১ অক্টোবর ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের তিনটি ছবি পোস্ট করা হয় এবং ক্যাপশনে রুয়েটের বাসের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো’ মন্তব্য করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে রাজশাহীর পাবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাবা মো. আয়নাল হককেও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়, তবে প্রাথমিক তদন্তে তাঁর কোনো জড়িততা না পাওয়ায় মুক্তি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারের পর সিদ্দিকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তা পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়। ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মো. মানিক হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানা থেকে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক রিমান্ডের জন্য আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সন্দেহজনক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের জড়িততা যাচাই করা প্রয়োজন। এছাড়া জব্দ করা আলামত ছাড়াও অন্য কোনো ডিভাইস বা ডিজিটাল আলামত আছে কিনা তা অনুসন্ধান করতে হবে এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা কোনো গোষ্ঠী আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। এইসব বিষয়ের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়েছে।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে আজ রোববার শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন মামলার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত দিনের রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং তদন্তে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য জড়িততা ইত্যাদি বিষয় বিশদভাবে তদন্ত করা দরকার। বিচারক আসামিকে ‘আপনার পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন?’ বলে জিজ্ঞাসা করেন, যার উত্তর আসামি ‘না, কেউ নেই’। এরপর বিচারক ‘কেন আপনি এমন করেছেন?’ জিজ্ঞাসা করে, আসামি ‘এমনি করেছিলাম। কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, মজা করেছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।’ বলে ব্যাখ্যা দেন।
বিচারক শেষে আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত পূর্বে ২৩ অক্টোবর আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দিয়েছিল।