রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাস্তবায়ন জরুরি
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণায় দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বৈদ্যুতিক রিকশা দুর্ঘটনা প্রায় ২০ শতাংশ
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
সরকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই‑রিকশা) চলাচলের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা শৃঙ্খলা আনতে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ছাড়া নীতিমালা সফলতা পায় না, সম্পাদকীয় মতে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ স্থবিরতার ফাঁদে আটকে আছে, ফলে কাঙ্ক্ষিত হারে নতুন জীবিকা সৃষ্টি হচ্ছে না। টানা চার বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি অধিকাংশ মানুষের প্রকৃত আয় কমিয়ে দিয়েছে, যা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারে সহায়ক হয়েছে, সম্পাদকীয় উল্লেখ করেছেন।
দেশে অটোরিকশা চালু দেড় দশকের বেশি সময় আগে হলেও নীতিমালা না থাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কালোটাকার মালিকেরা অসংখ্য অটোরিকশা মালিক হয়েছেন, ফলে পরিবহন খাত আরও নৈরাজ্যিক হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোটরসাইকেলের পর অটোরিকশা সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর প্রধান কারণে পরিণত হয়েছে, সম্পাদকীয় এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির প্রায় ২০ শতাংশ ঘটে বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ অটোরিকশা চলছে এবং প্রতিদিন আরও এক থেকে দেড় হাজার অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় অটোরিকশার উৎপাদন থেকে চালনা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, গতি, চালকের বয়স, যাত্রীসংখ্যা, নিবন্ধন ফি ও কারিগরি মানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সম্পাদকীয় জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অটোরিকশার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বুয়েটসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সম্পাদকীয় প্রস্তাব করেছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে পাঁচটি অটোরিকশার নিবন্ধনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করা দরকার, এবং এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ একটি বা দুটি অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ দিলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে, বলা হয়েছে।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো ছাড়া অটোরিকশা খাতে নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব নয়; তবে ৭০ লাখের বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে এমন দেশে নীতিমালার মধ্যে আনতে হবে, সম্পাদকীয় যুক্তি দিয়েছেন। যদি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব থাকে, পুরো প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।