কনসার্টের ভেন্যু সংকটে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে
ব্রান্ডমিথের ‘নভেম্বর রেইন’ও নিরাপত্তা সমস্যার কারণে স্থগিত করা হয়েছে
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি · ঢাকা
প্রকাশ:
মনজুর কাদেরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পেয়ে ঢাকা শহরের ওপেন এয়ার কনসার্টগুলো একের পর এক স্থগিত ও বাতিল হচ্ছে, কখনো অনুমতি ছাড়া ভেন্যু বদলানো, আবার কখনো টিকিট ছাড়া দর্শক ভেন্যুতে ঢুকে পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
যমুনা ফিউচার পার্কে ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ কনসার্ট ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেমস মঞ্চে ওঠার আগেই নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে শতাধিক মানুষ টিকিট ছাড়াই প্রবেশ করে, ফলে আয়োজককে প্রধান ফটক খুলে দিতে বাধ্য করা হয় এবং কয়েক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আসা দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়; সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কনসার্টের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট।
এই বিশৃঙ্খলার প্রভাব পরবর্তী আয়োজনেও পড়েছে; ১৪ নভেম্বর ‘নভেম্বর রেইন’ নামে একটি ওপেন এয়ার কনসার্ট ব্রান্ডমিথ কমিউনিকেশনসের উদ্যোগে পরিকল্পনা করা হয়, বিপণন বিভাগের প্রধান রাকিবুল আজম গত শুক্রবার প্রথম আলোকে জানান যে ভেন্যুর সঙ্গে চুক্তি এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের অনাপত্তিপত্রসহ সব প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, তবে ২৩ অক্টোবরের ঘটনা পর ভেন্যু কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা অজুহাতে নতুন কনসার্টের অনুমতি না দিয়ে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র ও মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগেও ইতিবাচক সাড়া পাননি, ফলে অনুষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হয় এবং তিন মাসের প্রস্তুতি ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব পড়ে।
এর আগে এ বছরের ১৮ এপ্রিল ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে ব্যান্ড অ্যাশেজের উন্মুক্ত কনসার্ট নিরাপত্তা ও ভেন্যু সমস্যার কারণে বাতিল হয়, ভোকাল জুনায়েদ ইভান তখন দর্শক সামলানোর বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন; ২৪ জুলাই পাকিস্তানি গায়ক আতিফ আসলামের ঢাকার কনসার্টেও অনুমোদিত ভেন্যুর পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আর সেপ্টেম্বর ‘মাহএক্স রিপাবলিক’ ও কাবিশের ‘ওয়েভ ফেস্ট’ নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় স্থগিত হয়।
ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রীতম দে বলেন, ঢাকার অনেক কনসার্ট ভেন্যু প্রকৃত কনসার্টের উপযোগী নয়, প্রবেশপথে বিশৃঙ্খলা রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশের সহযোগিতা অপরিহার্য, আর আর্মি স্টেডিয়ামের মতো জায়গায় সেনাবাহিনীর সহায়তা থাকায় জটিলতা কমে যায়।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গণি জানান, একটি কনসার্টের আগে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়, যদি সমস্যার ধরা পড়ে তবে অনুমতি দেয়া হয় না; আয়োজকদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ইত্যাদি শর্ত পূরণ করতে হয় এবং তদারকি করা হয়, তবে প্রতিটি কনসার্টে শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব নয়, তাই আয়োজকদের আনসার ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণিত হলে সতর্ক করা হয় এবং পরেরবার সেই প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুমতি আর দেওয়া হয় না।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান জানান, কনসার্টের খবর আগে থেকে জানালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক পরিকল্পনা করা হয়, আয়োজকেরা তাদের পরিকল্পনা জানান, ডিসি পর্যায়ে সভা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; কনসার্টের আগে ও পরে এক ঘণ্টা ট্রাফিক পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়, নিরাপত্তা বিষয়টি ক্রাইম বিভাগ এবং যানবাহন চলাচল দিকটি ট্রাফিক বিভাগ সমন্বয় করে।
বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সভাপতি হামিন আহমেদ বলেন, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে দুটি স্থায়ী কনসার্ট ভেন্যু এখন সময়ের দাবি, যাতে দর্শকের প্রবেশ, বের হওয়া ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা থাকে; তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বড় কনসার্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, জনবলের সীমাবদ্ধতা থাকলে আনসার বাহিনীকেও যুক্ত করা যেতে পারে এবং কনসার্ট আয়োজকদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত।