গাজীপুরে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলেন
বিক্ষোভে ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষিত, কোনো গ্রেফতার হয়নি
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি · গাজীপুর
প্রকাশ:
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আজ বুধবার সকাল ৯:৩০ টার দিকে পোশাকশ্রমিকেরা সাইনবোর্ড, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ী ও বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভোগড়া বাইপাসে ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখে শ্রমিকেরা দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সড়ক থেকে সরে যান। গাজীপুর মহানগরীর ঘটনার পর মোট ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, যার মধ্যে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি, ১২ প্লাটুন অতিরিক্ত বিজিবি, আট প্লাটুন এসআরবি ও পাঁচ প্লাটুন আনসার সদস্য রয়েছে। ফলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ট্রাফিক স্বাভাবিক হয়েছে।
চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ির পথে বাসন থানার সামনে শতাধিক শ্রমিক বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন, যেখানে পুলিশ অন্তত দশটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের স্থানান্তর ঘটায়। গাছা থানা এলাকায় দুই থেকে চার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে আসে, ফলে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ঘটে; পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে জয়দেবপুর এলাকায়ও শ্রমিকদের বিক্ষোভ চেষ্টাকে পুলিশ থামায়।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) আরিফ হোসাইন জানান, গত সোমবার থেকে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল; মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১১ প্লাটুন বিজিবি করা হয়; আজ আরও এক প্লাটুন বাড়িয়ে মোট ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও বাংলাবাজারে শ্রমিকদের বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে এবং আজ ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান জানান, দুষ্কৃতকারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টা করেছিল; পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার হয়নি।
শ্রমিক আন্দোলনে আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শ্রমিক তৌফিক মিয়া (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন; তার মৃত্যু পরবর্তী দিন শিন শিন জাপান হাসপাতালের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। এনসিপি কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসের খান জানান, পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে এবং তৌফিক মিয়ার হত্যার ন্যায়বিচার ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের আহ্বান জানিয়েছেন।