কুমিল্লায় নিখোঁজ ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থীর দুই দিন পর পুকুরে লাশ উদ্ধার
দুই দিন পর পুকুরে ভাসমান মৃতদেহ, ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি · বুড়িচং, কুমিল্লা
প্রকাশ:
পুলিশের হস্তক্ষেপে কুমিল্লার বেসরকারি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের (২৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার বুড়িচং উপজেলায় কাবিলা এলাকার কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুর থেকে তাঁর ভাসমান দেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
কলেজ সূত্রে জানা যায়, আদনান আলতাফ ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সোপোর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আলতাফ হোসাইন রাথার এবং মায়ের নাম নিঘাত বেগম। তিনি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (ইএমসি-১৪ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে কাছের হোটেলে গিয়েছিলেন। এরপর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে বুড়িচং থানায় তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পুলিশ কুমিল্লা শহরসহ অন্যান্য স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে যায়।
বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজন কলেজের কাছের পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখেন এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ তুলে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, আদনান পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় দুই বছর পিছিয়ে ছিলেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে তাঁর বাবা একবার বাংলাদেশে এসে প্রায় দেড় বছর তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তাঁর বিষয়ে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। এ কারণে কলেজ ক্যাম্পাসে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকার বিশেষ ব্যবস্থা করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি মা-ছেলে বাংলাদেশে আসেন।
বিজ্ঞাপন
কয়েক দিন পর আদনানের পরীক্ষা ছিল উল্লেখ করে শাহ মো. সেলিম আরও জানান, আদনানের মৃত্যুর বিষয়টি চট্টগ্রাম ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনকে জানানো হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকায় হিমায়িত অবস্থায় রাখা হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাঁর দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার বিকেলে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছিল। এর পর থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও খোঁজখবর চালাচ্ছিল। বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজনের জানাতে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে আদনান মাদকাসক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে তা তদন্তে রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।