কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে সিপিআর ও জরুরি চিকিৎসায় দেরি নয়
বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়, প্রাপ্তবয়স্কের সিপিআরে প্রতি মিনিটে ১০০–১২০ বার চাপ দিতে হয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক · ঢাকা
প্রকাশ:
হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করার পর কেউ জ্ঞান হারালে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। এমন সময় আতঙ্কে সময় নষ্ট না করে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নিতে হয়। বিশেষ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। দ্রুত সিপিআর শুরু করা এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এমন একটি জরুরি অবস্থা, যাতে হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারেন, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক জিনিস নয়। হার্ট অ্যাটাকে সাধারণত হৃদ্যন্ত্রের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্র কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হঠাৎ হারায়। হার্ট অ্যাটাক কখনও কখনও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে।
কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে দেখতে হবে, তাঁকে ডাকলে তিনি সাড়া দিচ্ছেন কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। শ্বাস নিতে হাঁসফাঁস করা বা অনিয়মিত শ্বাস নেওয়াকে স্বাভাবিক শ্বাস ধরে নেওয়া যাবে না।
রোগী সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে বলে সন্দেহ করতে হবে। তখন দ্রুত জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ফোন করুন। বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা যায়। আশপাশে কেউ থাকলে তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে কিংবা স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) খুঁজে আনতে বলুন।
বিজ্ঞাপন
প্রশিক্ষণ জানা থাকলে অবিলম্বে সিপিআর শুরু করুন। প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে শক্ত ও সমতল জায়গায় চিত করে শোয়ান। বুকের মাঝখানে, বুকের হাড়ের ওপর এক হাতের তালুর গোড়া রাখুন এবং অন্য হাত তার ওপর রেখে আঙুল জড়িয়ে নিন। কনুই সোজা রেখে শরীরের ওজন কাজে লাগিয়ে বুকের ওপর জোরে ও দ্রুত চাপ দিন। প্রতি মিনিটে ১০০–১২০ বার চাপ দিতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে বুক প্রায় ৫–৬ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত চাপতে হয় এবং প্রতিবার চাপের পর বুককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দিতে হয়।
প্রশিক্ষণ থাকলে ৩০ বার বুক চাপ দেওয়ার পর দু’বার মুখে শ্বাস দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। প্রশিক্ষণ না থাকলে বা মুখে শ্বাস দিতে অসুবিধা হলে একটানা বুকের ওপর চাপ দিয়ে যেতে হবে। এইডি পাওয়া গেলে যন্ত্রটির নির্দেশ মেনে চলুন। চিকিৎসাকর্মী এসে দায়িত্ব নেওয়া, রোগীর স্বাভাবিক শ্বাস ফিরে আসা কিংবা শারীরিকভাবে আর চালিয়ে যেতে না পারা পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যান।
রোগী অচেতন হলেও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিলে বুকে চাপ দেওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন এবং তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে নজর রাখুন।
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা কিংবা হঠাৎ দুর্বলতা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। সব রোগীর ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। কখনও ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালেও ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে গ্যাস বা বদহজম ভেবে অপেক্ষা করা ঠিক নয়, দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীকে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যেতে দেওয়া যাবে না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যাসপিরিনসহ কোনো ওষুধও দেওয়া যাবে না।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত সিপিআর শুরু করা এবং প্রয়োজনে ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। জরুরি চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি শুরু হয়, রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বাড়তে পারে।
পরিবারের সদস্যদের সিপিআর শেখা থাকলে বিপদের মুহূর্তে তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তবে সিপিআর চিকিৎসকের বিকল্প নয়। জরুরি চিকিৎসা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এটি জীবন বাঁচানোর একটি জরুরি ব্যবস্থা।