ভারতের তিন রাজ্যে অস্ত্র পাচার চক্রের সন্ধান, ৪৪ হাজার কার্তুজ উদ্ধার
বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজনকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:
ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যজুড়ে সক্রিয় একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। সম্প্রতি এই তিন রাজ্যে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পাটনা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের আরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজারের বেশি কার্তুজ উদ্ধার করে বিহার এসটিএফ। এই ঘটনায় চন্দন তিওয়ারিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে উত্তর প্রদেশের বদায়ূঁ জেলায় এবং পরবর্তীতে হরিয়ানায় অভিযান চালানো হয়। হরিয়ানা এসটিএফ ঝজ্জরের রোহদ টোল প্লাজার কাছে দুটি গাড়ি তল্লাশি করে আরও ২৫ হাজার গুলি ও আটটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে।
হরিয়ানার ঘটনায় বদায়ূঁ জেলার বাসিন্দা মুন্না খান, আসিম রইস, সবলু খান, আরবাজ আলী ও জিনাত নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ‘বদায়ূঁ গান হাউস’-এর মালিক মুন্না খান সিরসা এলাকায় অবস্থিত ‘মেহক গান হাউস’-এর মালিক বিজয় গোয়েলের কাছ থেকে এই কার্তুজ সংগ্রহ করেছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চন্দন তিওয়ারি ও তাঁর ভাই অভিষেক তিওয়ারির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। এছাড়া অন্য একটি ছবিতে মুজাফফরপুরের এক স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গেও তাঁদের দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কেবল পোশাক পরা ছবির মাধ্যমে আরএসএসের সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায় না এবং তদন্তে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। অভিষেক তিওয়ারি এর আগেও একটি অস্ত্র পাচার মামলায় কারাগারে ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলো সরকারি অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বা সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি বলে শনাক্ত হয়েছে। সরকারি কারখানায় তৈরি গোলাবারুদ কীভাবে এই বেআইনি চক্রের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগে জাল লাইসেন্স ব্যবহার করে ১০০টি পিস্তল সরবরাহের মামলায় বিহারের ‘জালান শপ’ নামের একটি অস্ত্র বিপণির নাম এসেছিল, যার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ইতিমধ্যে তদন্তে যুক্ত হয়েছে। গোলাবারুদের মূল উৎস এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিপুল এই গোলাবারুদের চূড়ান্ত ক্রেতা কারা ছিল, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।